নারায়ণগঞ্জ । বৃহস্পতিবার
১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালমান শাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ, হবে নতুন ময়নাতদন্ত

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন। এর আগে ২০ মে আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদন করা হয়।

বুধবার (১০ জুন) তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন)-এর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, যা আদালত মঞ্জুর করেছেন।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত করা হবে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমান শাহর মা নিলুফা জামান চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁর নিউ ইস্কাটনের বাসায় যান। সেখানে তাদের জানানো হয় তিনি ঘুমিয়ে আছেন। পরে বাসা থেকে ফোন পেয়ে দ্রুত ফিরে এসে তারা তাঁকে শয়নকক্ষে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

পরবর্তীতে সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এতে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বাদীপক্ষ দাবি করে, সালমান শাহর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না; এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর পর ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং নতুন করে তদন্ত শুরু হয়।

এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করবে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >