দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেন শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আজিজুর রহমান আজিজ। রোববার (২৬ অক্টোবর) রাতে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে দর্শনা থানা পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, “আজিজ দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আটকের পর যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় চাঁদাবাজির একটি মামলা রয়েছে।”
গ্রেফতারের পর অসুস্থ বোধ করায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শিল্পাঞ্চল থানার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই মামলায় আজিজের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আজিজ আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও জালিয়াতিসহ অন্তত ছয়টির বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার একটি চাঁদাবাজির মামলা বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।
মামলার বাদী ও এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী বলেন, “আজিজের কারণে আমি সম্পূর্ণভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমার তেজগাঁওয়ের গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট ও চাঁদাবাজি করেছে সে এবং তার সহযোগীরা। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তিনি আরও জানান, নারায়ণগঞ্জের একটি রড কারখানার মেশিনারি ও মালামাল লুটের সঙ্গেও আজিজ জড়িত। ওই ঘটনায় স্থানীয় থানায় পৃথক মামলা রয়েছে।
এদিকে আজিজুর রহমান আজিজ দীর্ঘদিন ধরে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার গ্রেফতারের খবরে নারায়ণগঞ্জ ও তেজগাঁও এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।








