নারায়ণগঞ্জ । শনিবার
১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মনোনয়ন বাতিলের নামে ‘রাজনৈতিক প্রহসন'
গিয়াসউদ্দিনের আপিলকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা, পাল্টা বিস্ফোরণে মান্নান

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী লড়াই ক্রমেই রূপ নিচ্ছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের করা মনোনয়ন বাতিলের আপিলকে সরাসরি “ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। আগামী ১৯ জানুয়ারি আপিল শুনানীর দিন ধার্য করা হয়েছে। আপিল আবেদনে গিয়াসউদ্দিন অভিযোগ করেন, মান্নান ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে তার হলফনামায় স্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব, বার্ষিক আয় ও পারিবারিক তথ্য গোপন করেছেন।

আপিলে আরও দাবি করা হয়, মান্নান প্রাইম ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখার একাউন্ট সহ বিভিন্ন একাউন্ট গোপন রেখেছেন, এমনকি তার প্রকৃত বার্ষিক আয়ও উল্লেখ করেননি। পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিন সন্তানের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মান্নানের দুই ছেলে সজিব ও শাকিল দুজনেই ‘মিলিয়নিয়ার’ এবং তাদের স্ত্রীরাও ‘কোটিপতি’—আপিলে এমন বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন গিয়াসউদ্দিন ।

এছাড়াও গিয়াসউদ্দিন অভিযোগ করেন, মান্নান তার পেশা ও ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন। তন্মধ্যে “মেসার্স একতা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন” নামের একটি ফার্মের অস্তিত্ব ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক একাউন্ট নম্বর হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

গিয়াসউদ্দিনের এসব অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আজহারুল ইসলাম মান্নান “সময় নারায়ণগঞ্জ”কে বলেন,
আমার কী আছে আর কী নেই, সেটা জানার দায়িত্ব গিয়াসউদ্দিনের না। উনি কি আধ্যাত্মিক ব্যক্তি নাকি জ্যোতিষী? নাকি আমার ঘরের কোণায় কোণায় ঢুকে সবকিছু দেখে গেছেন? প্রাইম ব্যাংকের একাউন্ট প্রসঙ্গে মান্নান স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রাইম ব্যাংকে আমার একটি একাউন্ট আগে ছিল। বর্তমানে সেখানে কোনো লেনদেন হয় না। বিষয়টি গোপনের প্রশ্নই আসে না। এটাকে গোপন বলা রাজনৈতিক অপপ্রচার ছাড়া কিছু না।

সন্তানদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মান্নান বলেন, প্রথম হলফনামাতেই আমার সব সন্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আমার ছেলে সজিব ও শাকিল দুজনেই স্বাবলম্বী। তাদের নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে, আলাদা আয়কর ফাইল আছে। তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ মূল্যহীন। তাদের নিয়ে কুৎসা ছড়ানো রাজনৈতিক নোংরামির চরম উদাহরণ।

“মেসার্স একতা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন” প্রসঙ্গে মান্নান বলেন, এটি একটি লেবার কন্ট্রাক্ট প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রায় ১৫০ জন পার্টনার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ। কোনো লেনদেন নেই। এটাকে ইস্যু বানানো মানে জোর করে কাদা ছোড়া।

গিয়াসউদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে মান্নান বলেন, তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত একজন নেতা। একেক সময় একেক কথা বলেন বেড়ান, কখনো নারায়ণগঞ্জ-৩, কখনো নারায়ণগঞ্জ-৪ নিয়ে লাফালাফি করেন। তার কথায় এখন আর কেউ বিভ্রান্ত হয় না। তিনি আমার দলের কেউ না। তার কথাতে বিএনপির সমর্থকদের কিছু যায় আসে না।

তিনি আরও বলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজের রাজনৈতিক আয়নায় মুখ দেখা উচিত। দলের জন্য অযোগ্য বলেই যাকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তার মন্তব্যের জবাব দেওয়াও আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায় না।

শেষে নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রেখে মান্নান বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে আমার হলফনামা মিথ্যা বা ভুল তথ্যে পূর্ণ, তাহলে কমিশন আমাকে বাতিল করবে। আমার কী আছে, কী নেই—তা কমিশনই বিচার করবে।

তবে শেষ সময়ে হুঁশিয়ারি দিতে ছাড়েননি তিনি। গিয়াসউদ্দিনকে কড়া বার্তা দিয়ে মান্নান বলেন, যদি আমার মনোনয়ন বাতিল না হয়, তাহলে গিয়াসউদ্দিন আপনি মুখ লুকানোর জায়গা এখন থেকেই রেডি করে রাখুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >