নারায়ণগঞ্জ । মঙ্গলবার
২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কায়েমপুরে ‘ইয়াবা আনু’ আতঙ্ক চাঁদাবাজি ও মাদকের জালে জিম্মি এলাকাবাসী

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর ওয়াপদারপুল এলাকা যেন এক অদৃশ্য আতঙ্কের ছায়ায় ঢেকে গেছে। স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে এক নাম ‘ইয়াবা আনু’। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কায়েমপুর ওয়াপদারপুল এলাকার অস্থায়ী বাজারটির নিয়ন্ত্রণ এখন আনুর হাতেই। বাজারের প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টাকার মতো চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। এতে করে ছোট দোকানিরা আর্থিকভাবে চাপে পড়লেও ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

এদিকে, মাদক ব্যবসা পরিচালনায় আধুনিক কৌশল ব্যবহার করে আলোচনায় এসেছেন আনু। অভিযোগ রয়েছে, কায়েমপুর শহীদ তিতুমীর একাডেমির আশপাশে তার নিয়ন্ত্রিত ‘স্পট’ এলাকায় নজরদারির জন্য স্থাপন করা হয়েছে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে প্রশাসনের গতিবিধি ও অপরিচিত ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখা হয়, ফলে নির্বিঘ্নে মাদক বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এই চক্র।

এলাকাবাসীর দাবি, এক সময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে আনু এখন বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। রাতারাতি সম্পদের এই উত্থান স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি তার প্রভাব ও দাপটে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, আমরা এখন নিরাপদ নই। বাজারে ব্যবসা করতে গেলেও চাঁদা দিতে হয়, আবার এলাকায় মাদকের ছড়াছড়িতে তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই ভয়ভীতি দেখানো হয়।

আরেক বাসিন্দার কথায়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবার মুখে এখন ‘ইয়াবা আনু’র নাম। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ যেন জরুরি ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক ও চাঁদাবাজির এই চক্র ভেঙে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে। তাই একটি নিরাপদ, স্বাভাবিক ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >