নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন রুসেন হাউজিং সোসাইটিতে দিনের পর দিন রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস লুটপাট করে একপ্রকার সাম্রাজ্য গড়ে তোলা মো: ইউসুফ আলী ও তার দুই ভাইয়ের অবৈধ গ্যাস সংযোগ অবশেষে বিচ্ছিন্ন করেছে প্রশাসন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সুনিম সোহানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সহযোগিতা করে ফতুল্লা থানা পুলিশ এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের একটি টিম। টিমটির নেতৃত্ব দেন ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আতিকুল ইসলাম। যৌথ এই অভিযানে হাউজিং এর একই পরিবারের তিন ভাইয়ের চারটি ভবনসহ মোট দশটি ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

সরেজমিনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। রুসেন হাউজিং এলাকায় মো: ইউসুফ আলীর মালিকানায় রয়েছে দুটি বহুতল ভবন—একটি ৪ তলা ও অপরটি ৬ তলা। সরকারি নথি অনুযায়ী যেখানে তার নামে মাত্র ২টি দ্বিমুখী চুলার অনুমোদন রয়েছে, সেখানে বাস্তবে তিনি ২০ থেকে ২২টি চুলায় নির্বিঘ্নে গ্যাস জ্বালিয়ে যাচ্ছিলেন—যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরি। শুধু ইউসুফ আলীই নন, তার এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন তার আরও দুই ভাই। ইউসুফের ভাই নুরুল হক একই হাউজিংয়ের একটি ৪ তলা ভবনের মালিক। তার ভবনে ১টি দ্বিমুখী চুলার অনুমোদনের বিপরীতে ব্যবহার করা হচ্ছিল ৮টি চুলা। অপর ভাই মঞ্জু মিয়ার মালিকানাধীন ৩ তলা ভবনেও একই চিত্র—মাত্র ১টি দ্বিমুখী চুলার অনুমতি থাকলেও ব্যবহার হচ্ছিল ৬টি চুলা।
অভিযান চলাকালে প্রতিটি ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে অভিযানের পূর্বাভাস পেয়ে আগেই আত্মগোপনে চলে যান ইউসুফ আলী। একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এবং তার ভাইদের কেউই ফোন রিসিভ করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুসেন হাউজিংয়ের কয়েকজন বাড়িওয়ালা অভিযোগ করে বলেন, তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে ইউসুফ আলী নিজ বাড়িসহ তার দুই ভাইয়ের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে আসছিলেন। তারা জানান, একাধিকবার ইউসুফ আলীকে সতর্ক করা হলেও তিনি ছিলেন বেপরোয়া ও দাম্ভিক। এমনকি হুমকিস্বরূপ বলে বেড়াতেন— “আমাদের বাড়িতে গ্যাস জ্বলবেই, এটা কেউ আটকাতে পারবে না।”
স্থানীয়দের দাবি, সোনারগাঁওয়ের পাচআনী নামের একটি অজপাড়া গ্রাম থেকে উঠে আসা ইউসুফ আলীর হঠাৎ এমন ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে ওঠা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রুসেন হাউজিংয়ে এখন সবার মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন— কোন ক্ষমতা ও শক্তির ছত্রছায়ায় ইউসুফ আলী ও তার ভাইয়েরা এতদিন ধরে নির্বিঘ্নে একাধিক ভবনে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করে আসছিলেন, যেখানে সাধারণ মানুষ বৈধ গ্যাস সংযোগ পেতেই হিমশিম খাচ্ছে?
এলাকাবাসীর আরও প্রশ্ন, এমন ভয়ংকর গ্যাস অপব্যবহার কি শুধু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেই শেষ হওয়া উচিত, নাকি জেল-জরিমানা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি?





