নারায়ণগঞ্জ । শুক্রবার
১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিবাদই কাল হলো
ফতুল্লায় ঘুমন্ত পরিবারের বাড়িতে বোমা হামলা !

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র রাম দা নিয়ে ঘোরাফেরার প্রতিবাদ করায় এক পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে গভীর রাতে ঘরে বোমা নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। ভয়াবহ এই হামলায় ঘরের ব্যাপক ভাঙচুর হলেও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী ও তাদের শিশু কন্যা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ফতুল্লা থানার পাগলা পূর্ব মুসলিমপুর এলাকার শিরিন ভিলা নামের একটি বাড়িতে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় পূর্ব মুসলিমপুর এলাকার ইটালির বাড়ির ভাড়াটিয়া নাঈম (৩৫) প্রকাশ্যে হাতে রাম দা নিয়ে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় বিষয়টির প্রতিবাদ করলে স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মিয়া (৪০)–কে প্রকাশ্যে হুমকি দেন নাঈম। উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে “দেখে নেওয়ার” হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
হুমকির বাস্তব রূপ দেখা যায় গভীর রাতে। অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারে নাঈম তার ভাই রোমান (৩০) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৭ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সেলিম মিয়ার বসতঘরের ভেতরে পরপর দুটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।

বোমার বিস্ফোরণে ঘরের থাই গ্লাস ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে ভেতরে ছিটকে পড়ে। ঘরের আসবাবপত্র তছনছ হয়ে যায়। বিস্ফোরণের সময় সেলিম মিয়া, তার স্ত্রী ও শিশু কন্যা একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। বিকট শব্দ ও ধোঁয়ায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে তারা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর নাঈম বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে সেলিম মিয়াকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। এরপর সন্ত্রাসী কায়দায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, খবর পেয়ে তিনি রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পূর্বের বিরোধের জের বলে মনে হচ্ছে। সন্ধ্যার দিকে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে নাঈম রাম দা নিয়ে সেলিম মিয়ার বাসার সামনে অবস্থান করে চলে যান। গভীর রাতে লাল কস্টটেপ মোড়ানো বোমা সদৃশ পটকার বিস্ফোরণ ঘটে।

ওসি আরও জানান, ঘটনার পর রাতেই অভিযুক্ত নাঈমকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে দাপট দেখানোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে, প্রতিবাদ করাই কি এখন অপরাধ?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >