নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনীতিতে নতুন ধাক্কা দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বক্তাবলী গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ স্মরণ সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। এর আগে তিনি ১৩৯জন শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
তার এই ঘোষণা মুহূর্তেই নাড়া দিয়েছে একই আসনের আরও দুই হেভিওয়েট প্রার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং ব্যবসায়ী-রাজনীতিক শাহ আলমকে। রাজনৈতিক মাঠে ইতোমধ্যেই তাদের মধ্যে অস্বস্তির স্রোত বইতে শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণে দীর্ঘদিন ধরেই মোহাম্মদ আলী নারায়ণগঞ্জ রাজনীতির একজন “কিং মেকার” হিসেবে পরিচিত। তার হাত ধরেই বহু নেতার উত্থান, যার অন্যতম ছিলেন মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং শাহ আলম। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থনেই গিয়াসউদ্দিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই সম্পর্ক আর টেকেনি। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, গিয়াসউদ্দিন পরবর্তীতে নানা সময়ে নিজের রাজনৈতিক অভিভাবক মোহাম্মদ আলীর প্রতি অবজ্ঞা, অবমাননা এবং গাদ্দারি করেছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একাধিকবার উঠে এসেছে দুর্নীতি ও অপকর্মের অভিযোগ , যা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একইসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ এই দুই আসনেই মনোনয়ন চাইতে গিয়ে ‘লোভী রাজনীতির’ পরিচয় দিয়েছেন বলেও সমালোচনায় রয়েছেন তিনি। যে নেতার হাত ধরে তিনি একসময় সংসদ সদস্য হয়েছিলেন, এখন সেই নেতাই প্রতিপক্ষ ।এমন বাস্তবতায় তার অবস্থান বেশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে ফতুল্লার শাহ আলম , যিনি সময়-অসময়ে রাজনীতিতে হাজির হলেও দুঃসময়ে দলকে ছাড়েন, আবার নির্বাচন এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সারা বছর ঘুমিয়ে থাকা এক ক্ষমতালোভী ব্যবসায়ী শাহআলমও এখন ভয়ে ঘুম হারাচ্ছেন। বিএনপিকে যিনি দুঃসময়ে ছেড়ে গিয়েছেন, নির্বাচন শেষ হলেই বারংবার যিনি লাপাত্তা হয়ে যান এবং আবারো নির্বাচন এলেই হয়ে উঠেন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। মোহাম্মদ আলীর নির্বাচনী ঘোষণার পর তিনিও ব্যাপক চাপে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় জানান, সারা বছর ‘ঘুমিয়ে থাকা’ এই ব্যবসায়ী-রাজনীতিক এবার সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ায় শঙ্কায় ভুগছেন। বছরের পর বছর রাজনীতির সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও জাতীয় নির্বাচন এলেই নড়াচড়া শুরু করেন এই শিল্পপতি নেতা। বিএনপির রাজনীতিতে শাহ আলম ঠিক যেনো এক সুসময়ের বন্ধুর নাম।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মোহাম্মদ আলীর ভোটের মাঠে নেমে পড়া গিয়াসউদ্দিন–শাহ আলমকে দিশেহারা করে তুলেছে। তাদের দুজনেরই এখন ঘুম হারাম, মোহাম্মদ আলীর নির্বাচনী ঘোষণা যেনো তাদের শিরদাঁড়ায় এক হিমশীতল স্রোত বয়ে দিয়েছে। এমন ঘোষণায় থমকে গেছে তাদের নির্বাচনী অগ্রযাত্রা, বেড়েছে অনিশ্চয়তা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত এবং হট ফেভারিট নাম “মোহাম্মদ আলী” ।






