নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ‘কিং মেকার’ হিসেবে পরিচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানান তিনি।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে বক্তাবলী গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর ছোবহানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

উক্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি আপনাদের এলাকার মানুষ। এই এলাকার মাটি ও মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক অটুট। আপনারা যদি সমর্থন ও সাহস দেন, তাহলে আমি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবো।
তিনি আরও বলেন ,বিগত দিনে আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। আপনারা যদি চান আমি এই এলাকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করি, তাহলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়ে আপনাদের স্বার্থে আমি কাজ করে যাবো ।

এ সময় বক্তাবলীর ১৩৯জন শহীদ ও ২৪ এর গনঅভ্যুত্থান শহীদদের শ্রদ্ধায় ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বক্তাবলী ও আশপাশের এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করার দাবি জানান তিনি। ১৩৯ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্তভাবে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের শহীদদের তালিকাতে যুক্ত করার জোর দাবী জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সৈয়দ মবিনুর রহমান, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল বরণ রায়, এবং শহীদ পরিবারের সদস্যগন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী অতীতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপি গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে মনোনয়ন ঘোষণা করলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ এখনো খালি। একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা হয়নি। এ অবস্থায় মোহাম্মদ আলীর সম্ভাব্য প্রার্থীতা এলাকায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ সময় মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির, ন্যাপের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইব্রাহীম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম খোকন, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন সবুজ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যসহ হাজারো সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।






