ফতুল্লার পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়কের শাসনগাঁও এলাকায় উড়ালসেতুর বোরিংয়ের সময় হঠাৎই তিতাস গ্যাসের ১২ ইঞ্চি ব্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন ফেটে যায়। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই বিপর্যয়ে পুরো অঞ্চল প্রায় তিন দিন গ্যাসহীন অবস্থায় অচল হয়ে পড়ে।
হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়ে এলাকার শিল্পকারখানাগুলো। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় মালিকপক্ষকে পড়তে হয় বড় ধাক্কায়। পাশাপাশি সাধারণ গৃহিণীরাও পড়ে চরম ভোগান্তিতে চুলা জ্বালতে না পারায় থেমে যায় দৈনন্দিন রান্নাবান্না।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও সকাল থেকে দেখা যায় স্থানীয়দের হতাশা, ক্ষোভ ও অপেক্ষার নানা পোস্ট।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফাটল ধরা স্থানটি ছিল ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’। পাইপলাইনের ঠিক পাশেই ছিল একটি দুই তলা ভবন ও বিদ্যুতের খুঁটি যা সামান্য ভুলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি করেছিল। ফলে কাজের প্রতিটি ধাপে নিতে হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব সাহা জানান, মাটির প্রায় ২৪ ফুট গভীরে থাকা এই বিতরণ লাইন মেরামত করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। নিচে নেমে কাজ করতে গিয়ে কাঁদা-মাটি ও পিচ্ছিল পরিবেশের কারণে বারবার বাধার মুখে পড়ে তাদের দল। “ঝুঁকি ছিল সবসময়ই। তবুও সতর্কতার সঙ্গে ধাপে ধাপে এগোতে হয়েছে। এ কারণেই সময় লেগেছে তুলনামূলক বেশি,” এমনটাই জানিয়েছেন রাজিব সাহা।
নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ভোর ৬টায় এলাকায় ফিরে আসে গ্যাস সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ। দীর্ঘ অপেক্ষা আর ভোগান্তি শেষে স্বস্তি ফিরে পায় শিল্প মালিক, কর্মজীবী মানুষ, কর্মীরা ও গৃহিণীরা।






