বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এসোসিয়েশন জানিয়েছে, একযোগে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বিপিসি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে পাঠানো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিঠির মাধ্যমে জানানো তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান না পাওয়ায় ইতোমধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রতীকী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে ট্যাংকলরী চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যমুনা ডিপোতেও রবিবার (২৩ নভেম্বর) ট্যাংকলরীর মালিকরা এই ধর্মঘট পালন করছেন। তারা জানান প্রতীকী কর্মসূচি হিসাবে বেলা ১২টা পর্যন্ত ফতুল্লার যমুনার ডিপোর সমস্ত ট্যাংকলরী বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে দুপুর ২টা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করা হবে।

এসোসিয়েশন বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যদি আগামী ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে সমাধান না আসে তবে চলমান ধর্মঘট অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এসোসিয়েশন সরকার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ৬ দফা দাবি করেছেন,এই ৬ দফা দাবিতে অটল ট্যাংকলরী মালিকরা। এসোসিয়েশনের দাবীসমুহ হলো, ১. ট্যাংকলরী ভাড়া বৃদ্ধিতে সেবা গ্রহণকারী কর্তৃক ভ্যাট প্রদানের ঘোষণা গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।২. সকল ট্যাংকলরীর জন্য আন্তজেলা রূটপারমিট এবং ফিটনেস প্রদান করতে হবে ।৩. ট্যাংকলরীর ইকোনমিক লাইফ ৩৫ বছর করতে হবে ।৪. হঠাৎ করেই বাড়িয়ে দেয়া আয়কর ১২০০০ থেকে ৩০০০০ টাকা করার গেজেট বাতিল করতে হবে।৫. ট্যাংকলরী চালকদের দীর্ঘদিনের হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স যোগ্যতার ভিত্তিতে হেভী লাইসেন্স এ দ্রুত প্রদান করতে হবে। এবং ৬. ফিটনেস, লাইসেন্স ও কাগজপত্র পরীক্ষার নামে ট্যাংকলরীর চালকদের হাইওয়ে এবং জেলা পুলিশের অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার মেঘনা ও যমুনার ট্যাংকলরী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হুমায়ূন জাকির মিলন সময় নারায়ণগঞ্জকে জানান, ২৫ বছরের বেশি পুরানো ট্যাংকলরীর ইকোনমিক লাইফ নির্ধারন করতে হবে,হুট করে বরাদ্দকৃত আকাশছোঁয়া আয়কর কমাতে হবে,হাইওয়েতে ট্যাংকলরীর চালকদের পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে, ট্যাংকলরীর আন্ত জেলা রূটপারমিট অবশ্যই দিতে হবে এবং আমাদের ৬ দফা দাবি অবিলম্বে না মানলে ধর্মঘট কঠোর থেকে কঠোরতর হবে।

ফতুল্লা থানার ট্যাংকলরী মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মফিজ উদ্দিন বলেন, বাস,ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এর মতো মোটরযানের ইকনোমিক লাইফ নির্ধারন করলেও ট্যাংকলরীর কোনো নিদিষ্ট ইকনোমিক লাইফ নির্ধারন করা হয়নি। ২৫ বছর পুরোনো ট্যাংকলরি বাতিলের ঘোষণা বুদ্ধিহীন ও বাস্তবতা বিবর্জিত। অন্যান্য গাড়ির মতো ট্যাংকলরী মালামাল বহন না করায় এর আয়ুষ্কাল বেশি এবং ইঞ্জিন এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম তাই ট্যাংকলরীর ইকোনমিক লাইফ কমপক্ষে ৩৫ করতে হবে। রূটপারমিট না থাকার কারনে হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন সময় ট্যাংকলরী থামিয়ে নানা অজুহাতে অযথা জরিমানা করছে, বিআরটিসি ট্যাংকলরী চালকদের হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স দিলেও পুলিশ এখন ড্রাইভারদের কাছে ভারী লাইসেন্স চাচ্ছে যেটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এসোসিয়েশন জানিয়েছেন আগামী ৫ ডিসেম্বর এর মধ্যে সকল সমস্যার সমাধান এনে ৬ দফা দাবী না মেনে নিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য জ্বালানী তেল সরবারাহে ট্যাংকলরী পরিবহন সেবা বন্ধ করে দেয়া হবে। যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
এই ঘোষণায় সহমত পোষণ করে ফতুল্লায় ট্যাংকলরী মালিক সমিতি প্রতিদিন ধর্মঘট পালন করে যাচ্ছে। আজ ধর্মঘট চলাকালে ফতুল্লার ট্যাংকলরী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতিসহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রনি,বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ পলাশ,জামাল এবং হাবু সহ আরো বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





