নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ইজিবাইক চালক মমিনুর হককে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূলহোতা মামুন ওরফে প্রিন্স মামুন (২৮)-কে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়,”বাংলাদেশ আমার অহংকার”এই স্লোগান নিয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাব সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আসছে।
গত ২৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকেলে ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় ইজিবাইক চালক মো. মমিনুর হক (৩০)-কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।নিহত মমিনুর হক উত্তর নরসিংপুর এলাকায় হারুন মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন।
ঘটনার দিন সকাল ৮টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে মাসদাইরের রিপন মিয়ার গ্যারেজে যান। দুপুরে গাড়ি চার্জে দিয়ে সহকর্মী অটোরিকশা চালক সবুজ (২১)-এর সঙ্গে পঞ্চবটি মোড় এলাকায় যান।এসময় পূর্ব শত্রুতার জেরে মামুন ও তার সহযোগীরা তাদের ডেকে ফতুল্লার পঞ্চবটি প্রধান পাম্পের পাশের একটি সরু গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামুনসহ আসামিরা মমিনুর ও সবুজকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে।
পরবর্তীতে আহত মমিনুর গ্যারেজে ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাকে বাসায় নেওয়ার পথে উত্তর নরসিংপুর স্কুলের সামনে অটোরিকশার ভেতরেই তিনি মারা যান। স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার পর নিহতের পিতা জালাল উদ্দিন (৬৪) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে ঘটনার পরপরই র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জে বিশেষ অভিযান শুরু করে।গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা মামুন ওরফে প্রিন্স মামুন-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মামুনের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি উপজেলার মনিপাড়া এলাকায়। তার পিতা কমাল মজুমদার ও মাতা নারগিস বেগম।
র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অপারেশন অফিসার মো. গোলাম মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফতুল্লা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।






