নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ইয়াবা বিক্রেতাকে আটক করার পর পুলিশের হাতে সোপর্দ না করে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর নয়া মাটি মুসলিম পাড়া (উঁচা পাড়া) এলাকার লাবনী জুস ফ্যাক্টরির সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্তরা হলেন— ফতুল্লা থানা বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বাবুল মিয়ার ছেলে ও হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পিয়াস এবং বাবুল মিয়ার ভাগিনা আকবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় লাবনী জুস ফ্যাক্টরি সংলগ্ন ‘কিসমতের দোকান’-এর কর্মচারী কামালকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করেন পিয়াস ও আকবর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটকের পর কামালকে মারধর করতে করতে মুসলিম পাড়ার একটি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও দরকষাকষি চলে। এক পর্যায়ে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রফাদফার মাধ্যমে মাদকসহ আটক কামালকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মাদক বিক্রেতাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সাইফুল ইসলাম পিয়াসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ এসেছিল। পুলিশের সামনেই এলাকার মুরুব্বিদের অনুরোধে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাদকের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তকে কেন পুলিশের হাতে না দিয়ে টাকার বিনিময়ে রফা করা হলো এবং সেই টাকা কে নিয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে পিয়াস বলেন, “টাকা কে নিয়েছে আমি জানি না।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, রফাদফার এই টাকাটি সরাসরি হাতে না নিয়ে জনৈক কিসমতের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করেন শ্রমিক নেতা বাবুলের ভাগিনা আকবর। এ বিষয়ে কিসমতের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “কামালকে ছাড়িয়ে নিতে রফাদফা হয়েছে, তবে কত টাকা লেনদেন হয়েছে তা আমি বলতে পারব না।
জনমনে প্রশ্ন: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’নীতি অবলম্বন করছে, তখন একজন দায়িত্বশীল ছাত্রদল নেতা ও তার সহযোগীদের এমন কর্মকাণ্ডে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, তবে কি এই রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণেই এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে?
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদক বিক্রেতাকে মদদদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।






