নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্যবসায়ী জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে মূলহোতা শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২০ আগস্ট ২০২৬ রাত সাড়ে ৮টার দিকে বুলবুল কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের সালেহ নগরে তাহের আলী প্রধানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে শেখ সিফাতের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র হামলাকারী তার গতিরোধ করে। পরে চাপাতি, রামদা, সুইচ গিয়ার, ছুরি ও লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুরোনো মামলার জের ধরে হত্যার অভিযোগ
পুলিশের দাবি, নিহত বুলবুল ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের খাবার সরবরাহ করেছিলেন। ওই সময় শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালে বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা করেছিলেন, যেখানে তার অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলার পর থেকেই তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাতভর অভিযানে গ্রেপ্তার
হত্যার খবর পাওয়ার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) দীপংকর ঘোষ এবং বন্দর থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে রাতভর অভিযান চালানো হয়।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে মূলহোতা শেখ সিফাত (৩২)-সহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া আলামত
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে—
- ছ্যান দা – ১টি
- সুইচ গিয়ার চাকু – ২টি
- স্টিলের চাপাতি – ১টি
- স্টিলের ছুরি – ১টি
- লোহার পাইপ – ৫টি (এসএস পাইপসহ)
- ওয়াকিটকি – ১টি
আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা নং-৪০ (তারিখ: ২১ আগস্ট ২০২৬), দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।





