নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ২৩ জুন ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামিম ওসমান-ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের একটি অংশ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি প্রতিহতের পক্ষে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দুর্দিনে ত্যাগী কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হলেও অনুকূল সময়ে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি প্রতিহতের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলের অনুসারীদের ওপরই বর্তানো উচিত বলে তারা মনে করছেন।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মীর ভাষ্য, অতীতে যারা সুফিয়ান, দেলোয়ার প্রধান, মাহবুবুর রহমান কমল, মনু, আক্তার ও হুমায়ুন কবিরসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বজায় রেখেছেন, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি মোকাবিলায় তাদেরকেই সামনে আনা উচিত।
এদিকে, শামিম ওসমান ও আইভীপন্থী কয়েকজন নেতার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিতে রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, অতীতে সাংগঠনিক নানা চাপ, কর্মসূচির ব্যয়ভার ও নেতাকর্মীদের দেখভালের দায়িত্ব থাকলেও বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং অভ্যন্তরীণ ভাগ-বাটোয়ারার চাপও কমেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বন্দরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তৃণমূল ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব এবং পারস্পরিক আস্থার সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




