নারায়ণগঞ্জ । শনিবার
২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দরে আওয়ামী লীগের নেতাদের,“কোন পরশ পাথরের ছোঁয়ায় ভিখারি থেকে কোটিপতি?”

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যারা একসময় সাধারণ জীবনযাপন করতেন, তারা অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেলেন?

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ব্যবহার করে টেন্ডারবাজি, হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণ, দখলবাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এসব নেতা। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের একাধিক ফ্ল্যাট, নামে-বেনামে জমি, বিলাসবহুল গাড়ি, ব্যাংকে মোটা অঙ্কের এফডিআর ও বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি, অভিযুক্ত নেতাদের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক। জনগণের প্রশ্ন, “রাজনীতিতে এসে যদি কয়েক বছরের মধ্যেই ভাগ্যের চাকা এভাবে বদলে যায়, তাহলে এর পেছনের রহস্য কী?”

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ক্ষমতার দাপটে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী গড়ে তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাদের প্রভাব কমেনি; বরং নতুন বলয়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে দ্রুত অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্ত হলে “আঙুল ফুলে কলাগাছ” হওয়া অনেক নেতার সম্পদের প্রকৃত উৎস বেরিয়ে আসবে।

জনগণের প্রত্যাশা—দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বন্দরের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >