দেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার রামিছার নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ধর্ষকদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী যুব মজলিস।
ইসলামী যুব মজলিস নারায়ণগঞ্জ সদর থানা শাখার উদ্যোগে ২২ মে ২০২৬, শুক্রবার বিকালে চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হলের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামী যুব মজলিসের সদর থানা সভাপতি মুহাম্মদ শামীমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদ, খেলাফত মজলিসের মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, ইসলামী যুব মজলিসের মহানগর সভাপতি ডাঃ মোতাহার হুসাইন, জেলা সভাপতি রিফাত আহমদ সাজিদ, খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী আব্দুল গনী, ফতুল্লা থানা সভাপতি মাওলানা শরীফ মাহমুদ, ইসলামী ছাত্র মজলিসের জেলা সেক্রেটারি কামরুল হাসান মিরাজ, মহানগর সেক্রেটারি ফজলে রাব্বি, ইসলামী যুব মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি তানভীর শিকদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ শরীফ হোসাইন, ফতুল্লা থানা সভাপতি আয়ান আরিজ শিপন এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হুসাইন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার রামিছার ঘটনা উল্লেখ করে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন:
”রামিছার মতো অবুঝ ও নিরপরাধ মেয়েরা আজ নিজ দেশে নিরাপদ নয়। দেশে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার প্রধান কারণ দীর্ঘমেয়াদী বিচারপ্রক্রিয়া এবং আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ। শুধু আইনের বইয়ে শাস্তি থাকলেই অপরাধ কমে না, যদি না তার দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত প্রয়োগ দৃশ্যমান হয়।”
বক্তারা ইসলামী আইনের যৌক্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে আরও বলেন:
”ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী নারীদের সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ইসলামে জেনা ও নারীর ওপর জবরদস্তিমূলক নির্যাতনের (ধর্ষণের) শাস্তি অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট। যখন এই শাস্তির প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে ও দ্রুততম সময়ে কার্যকর করা হয়, তখন তা সমাজে সম্ভাব্য অন্য অপরাধীদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে নিবৃত্ত করে এবং শক্ত বার্তা দেয়। তাই রামিছাসহ সকল ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনার স্থায়ী অবসান ঘটাতে, ইসলামী আইনের মূল চেতনাকে ধারণ করে ধর্ষকদের প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আইন প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।”
মানববন্ধনের সভাপতি মুহাম্মদ শামীম তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, প্রশাসন যদি রামিছার ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি না করে, তবে আগামীতে সাধারণ জনতা ও যুব সমাজকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।





