যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনস্থ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে নেমে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘জাতীয় যুবশক্তি, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা’। দেশের লাখ লাখ বেকার যুবকের মেধা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং পুরো ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়াস্থ নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে ‘প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ’ ব্যানারে এই বিশাল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সর্বস্তরের ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা, চাকরিপ্রত্যাশী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় যুবশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক জাহিদুল হক বাঁধন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা একটি স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার নির্মম নমুনা। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা। এই প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লাখ লাখ বেকার যুবকের মেধা, অধ্যাবসায় এবং রঙিন ভবিষ্যৎকে এক লহমায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়, এটি তরুণদের মেধা হত্যার এক গভীর চক্রান্ত।
তিনি আরও যুক্ত করে বলেন, নিজের অভিভাবকত্বাধীন মন্ত্রণালয় পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে বাসা বাঁধা এই দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট নৈতিক দায় স্বীকার করে আমরা অবিলম্বে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের পদত্যাগ দাবি করছি। এই পদত্যাগের মধ্য দিয়েই যুবসমাজের ক্ষোভ প্রশমিত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে উচ্চারণ করেন যে, বর্তমান সচেতন ছাত্র-জনতার যুগে তরুণদের ভবিষ্যৎ ও চাকরির স্বপ্ন নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা কিংবা গোপন নিয়োগ বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না। অবিলম্বে দেশের প্রতিটি নিয়োগ খাত থেকে প্রশ্ন ফাঁসের এই কালো সিন্ডিকেট চিরতরে উপড়ে ফেলে জড়িত মূলহোতাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাঁদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় যুবশক্তির ঘোষিত ৫ দফা দাবি হলো।
১. যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে অবিলম্বে সসম্মানে পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে।
২. প্রশ্ন ফাঁসের সম্পূর্ণ ঘটনার সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং ঘটনায় জড়িত ছোট-বড় সকল সিন্ডিকেট সদস্যকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোরতম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিরাজমান সব ধরনের রাজনৈতিক দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, আঞ্চলিকতা ও ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. চাকরিপ্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে অপ্রয়োজনীয় মানসিক ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর নিয়ে স্বজনপ্রীতির সুযোগ ও অসচ্ছতা দূর করতে হবে।
৫. দেশের ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যা দূরীকরণে এবং যুবকদের সঠিক কর্মসংস্থান তৈরিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট সরকারি কর্মপরিকল্পনা সর্বসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূল দল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিক্ষোভ সমাবেশটি এক বিশাল জনসংযোগ কর্মসূচিতে পরিণত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবং সরাসরি উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক ফয়সাল আহম্মেদ, জাতীয় যুবশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম নেতা রাইসুল ইসলাম, জারিফ অনন্ত, নুরজামাল হাসান এবং অনিক খান সিয়াম।
এছাড়াও প্রতিবাদী এই মিছিলে পূর্ণ একাত্মতা ও সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমে আসেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম এবং ছাত্রনেতা সজিব হোসেন। সমাবেশে এনসিপি, যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও শ্রমিক শক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীসহ সাধারণ ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে চাষাড়া এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন।



