সম্প্রতি দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকা, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ও যুগের নারায়ণগঞ্জ নামক অনলাইন নিউজ পোর্টালে আমাকে নিয়ে “নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে সার লোড-আনলোড ও মজুত এবং আমার ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে যে সকল অভিযোগ, বক্তব্য ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমার বিরুদ্ধে সার লোড-আনলোড, সরকারি সার মজুত, অনিয়ম, প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়া এবং আমার ব্যক্তিগত অতীত ও সম্পদ অর্জন নিয়ে যেসব বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এসব অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, সরকারি নথি কিংবা যাচাইযোগ্য তথ্যও উপস্থাপন করা হয়নি।
বিশেষ করে, আমার ইজারাধীন ঘাট ব্যবহার করে সরকারি সার অবৈধভাবে লোড-আনলোড, মজুত বা পরিবহনের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের অনিয়মতান্ত্রিক সম্পৃক্ততা নেই। আমি নিয়ম অনুযায়ী ঘাটের ইজারাদার হিসেবে শ্রমিক নিয়োগ ও ঘাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কোনো আমদানিকারক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব পণ্য কীভাবে ও কোথায় পরিবহন বা খালাস করবে, সে বিষয়ে আমার আইনগত কর্তৃত্ব নেই।
প্রতিবেদনে আমার বক্তব্যের যে অংশ উদ্ধৃত করা হয়েছে, সেটিও খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে ভিন্ন অর্থ তৈরি করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বলেছি যে, আমার ঘাট দিয়ে কেন সার খালাস করা হচ্ছে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া উচিত। এর অর্থ কোনোভাবেই এই নয় যে, আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে সুবিধা নিচ্ছি।
প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আমার কোনো অনৈতিক বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণের সম্পর্ক নেই। কোনো সরকারি কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার অভিযোগও আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
এছাড়া প্রতিবেদনে আমার অতীত জীবন, আমার বাবা ও ফতুল্লায় কয়লা ভাঙার শ্রমিক হিসেবে কাজ করার প্রসঙ্গ টেনে আমার বর্তমান অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন মানুষের অতীত পেশা বা আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিজেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। আমার বৈধ পেশা, ব্যবসা ও সম্পদের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগভাবে যাচাই করতে পারেন। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া এসব বিষয়কে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে উপস্থাপন করে জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সার সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম, সরকারি সার আত্মসাৎ, অবৈধ মজুত, কালোবাজারি, পাচার কিংবা অনুমোদনহীনভাবে সরকারি সার লোড-আনলোডের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
আমার ধারণা, একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থে আমাকে হেয় করা এবং প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে এ ধরনের মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য প্রচার করছে। এর ফলে শুধু আমার ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন হচ্ছে না, আমার বৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আমি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, ভবিষ্যতে আমার সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি পর্যালোচনা এবং আমার বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ ও প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমার বিরুদ্ধে যেসব অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রয়োজনে আমি আইনানুগভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের বিষয়ে প্রতিকার চাইব।
মোকাররম সরদার
ইজারাদার, ফতুল্লা মাদ্রাসা ঘাট
নারায়ণগঞ্জ







