নারায়ণগঞ্জ । শনিবার
৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠরা নব্য গডফাদারদের ছত্রছায়ায় গড়ে তুলেছে লুটের রাজত্বঃ রফিউর রাব্বি

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারহীনতার ১৫১ মাস পূর্তিতে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরীন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, রথীন চক্রবর্তী, জাহিদুল হক দীপু, শীবনাথ চক্রবর্তী, তরিকুর সুজন, সেলিম মাহমুদ ও দুলাল সাহা।

রফিউর রাব্বি বলেন, “দেশের বিচারব্যবস্থা ধ্বংসের পথে গিয়েছে শেখ হাসিনার শাসনামলে। ত্বকী হত্যার বিচার ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। আজও সেই ঘাতকদের বিচার হয়নি। ওসমান পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে রেখেছিল—এখন তাদের সহযোগীরা নতুন গডফাদারদের সঙ্গে মিলে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু ত্বকী নয়—সাগর-রুনি, তনু, মিতু, আবরার ফাহাদসহ দেশের সকল হত্যার ন্যায়বিচার চাই। কোনো নতুন স্বৈরাচারের উত্থান এই দেশবাসী মেনে নেবে না।”

অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, “ওসমান পরিবার হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস বহন করছে। ১৯৭৩ সালে জাকসুর নেতা রোকন থেকে শুরু করে ত্বকী পর্যন্ত—তাদের হাত রক্তে রঙিন। আজও তাদের অনুসারীরা নারায়ণগঞ্জে সক্রিয়।”

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। র‍্যাবের তদন্তে উঠে আসে—ওসমান পরিবারের নির্দেশে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করে। কিন্তু ১১ বছর পেরিয়েও অভিযোগপত্র আদালতে পেশ হয়নি।

প্রতিমাসের ৮ তারিখে ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >