এসপিকে ‘লটারি মার্কা’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগের আহ্বান, আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে ক্ষোভ ঝাড়লেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম
নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম এবং জেলা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিনিয়র আইনজীবী ও সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।
তিনি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সিকে উদ্দেশ্য করে কঠোর সমালোচনা করেন এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে পদত্যাগের আহ্বান জানান।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, বর্তমান এসপিকে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমের সময় মাঠে দেখা যায়নি। এমনকি তার কোনো কর্মকর্তাকেও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, হকার উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় মাস শেষে যে বিশাল অঙ্কের অর্থ পাওয়া যেত, সেটি না পাওয়ার কষ্ট রয়েছে। তাই তাকে ‘লটারি মার্কা এসপি’ বলতেই হচ্ছে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনকে সংকটময় পরিস্থিতিতে মাঠে নেমে কাজ করতে দেখা গেলেও বর্তমানে সেই দৃশ্য অনুপস্থিত। তার ভাষায়, “আপনার চোখের সামনে ছিনতাই হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। পরে মিটিং করে লাভ কী ?”
তিনি বলেন, যদি প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কাজ করতে না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াই উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন, যদি নারায়ণগঞ্জে পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে থাকে, তবে সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি; এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবেই সভায় উপস্থাপিত হয়।
এদিকে, সভায় উত্থাপিত অভিযোগ ও মন্তব্যের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য মেলেনি।
এমন বৈঠক চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের অনেকেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলে বলেন, এসপি মিজানুর রহমান মুন্সি কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা হওয়ার কারণে কুমিল্লা জেলার বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সাথে হঠাৎ করে নারায়ণগঞ্জে কয়েকজন তাকে নিজের ক্যাশিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে হাতে এনেছেন কোটি কোটি টাকা। মিজানুর রহমান মুন্সী টাকার নেশায় মত্ত হয়ে উঠেছেন। নারায়ণগঞ্জ পুলিশের ইন্সপেক্টর করিম দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত নারায়ণগঞ্জে চাকরি করার সুবাধে সম্পদের পাহাড় বনে গেছেন এই মিজানুর রহমান মুন্সির বদৌলতে।
এমন অসংখ্য ঘটনা ছাড়াও প্রতিরাতেই প্রায় প্রতিটি থানায় বসে সালিশি বৈঠকের নামে ঘুষ বাণিজ্যের মহোৎসব। থানায় বসে ধর্ষণের মামলা বিচার সালিশি করে নিজে সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে ভিকটিমের বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ঘটনা ও ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের জিম্মি করে পুলিশ কর্মকর্তা নামধারী কেশিয়ার রা হাতিয়ে নিচ্ছে বিশাল অংকের অর্থ।
এসব নিয়ে বলতে গেলেই সাংবাদিকদেরও কেউ নানাভাবে হুমকি দেয় পুলিশের অসাধু চক্র।
তথ্যসূত্রঃ নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট




