নারায়ণগঞ্জ । সোমবার
২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫০ ঊর্ধ্ব কফি হাউজ শেষবেলা ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন

গত শনিবার রাত ৮টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বরফকল চৌরঙ্গী ইকো পার্ক ভাসমান রেস্টুরেন্টে প্রবীণ নাগরিকদের সমন্বয়ে সংগঠিত ‘৫০ ঊর্ধ্ব কফি হাউজ শেষবেলা ফাউন্ডেশন’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল,প্রথম পর্ব ঈদ পুনর্মিলনী উৎসব এবং দ্বিতীয় পর্ব বাংলা বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির অতিরিক্ত চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি শহীদ উল্লাহ, স্থায়ী কমিটির নির্বাহী পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ মামুন, স্থায়ী কমিটির পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি সালিমা আক্তার শান্তা, স্থায়ী কমিটির পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক হোসনেয়ারা বেগম, স্থায়ী কমিটির পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মো. বিল্লাল হোসেন, স্থায়ী কমিটির পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কবি সিরাজুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগম ও শাহানা মান্নান বুলবুল, নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ এবং ‘বিজয়’ পত্রিকার সম্পাদক ও বিশিষ্ট ছড়াকার সাব্বির আহমেদ সেন্টু।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গীতিকার, সুরকার, লেখক, কবি ও সাহিত্যিক প্রফেসর আমির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক ইনচার্জ মো. এম এ করিম এবং সমাজসেবক নাসির মৃধা।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমি ৫০ ঊর্ধ্ব কফি হাউজ শেষবেলা ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছি। সুযোগ পেলে প্রবীণ নাগরিকদের পাশে থেকে ফাউন্ডেশনের স্লোগান বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবার হোক সুরক্ষিত বাসযোগ্য স্থান’ এগিয়ে নিতে কাজ করব।


তিনি আরও বলেন, “আমাদের সমাজে অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজ গৃহেই গৃহবন্দি জীবন যাপন করছেন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন পারিবারিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ। প্রবীণরা সারাজীবনের অর্জন দিয়ে সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলেন। অথচ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তারা অবহেলার শিকার হন যা অত্যন্ত দুঃখজনক।


তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এটাই কি প্রবীণ নাগরিকদের শেষ জীবনের প্রাপ্তি? এই প্রশ্ন দেশের চালিকাশক্তির কাছে।”
বিশেষ অতিথি মো. এম এ করিম বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমি আনন্দিত এবং গর্বিত। ‘বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক সুরক্ষিত স্থান’—এই স্লোগানটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। বর্তমান সময়ে আমরা অনেকেই ব্যস্ততার কারণে বাবা-মাকে যথাযথ সময় ও সেবা দিতে পারি না। এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যেভাবে তারা আমাদের লালন-পালন করে বড় করেছেন, ঠিক সেভাবেই আমাদেরও তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করা উচিত। এটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।


এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাড. বিল্লাল হোসেন, শাহানা মান্নান বুলবুল, হোসনেয়ারা বেগম, মনোয়ারা বেগম, সালিমা আক্তার শান্তা, কবি সিরাজুল ইসলাম, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবি জয়নুল আবেদীন জয় এবং শুকুর মাহমুদ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবার হোক সুরক্ষিত বাসযোগ্য স্থান’ এই ক্যাপশনে উজ্জ্বল ও কার্যকরী সদস্য জহিরুল ইসলাম মিন্টুর প্রযোজনায় একটি মূকাভিনয় নাটিকা মঞ্চস্থ হয়।
পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >