রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যাত্রাবাড়ী–মাতুয়াইল এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, যাত্রাবাড়ী-মাতুয়াইল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট-এ প্রতি রাতেই বর্জ্যে আগুন লাগিয়ে পোড়ানো হচ্ছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া কালো ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে পোড়া বর্জ্যের ধোঁয়ায়। জানালা-দরজা বন্ধ রেখেও রক্ষা নেই—ধোঁয়া ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতর। শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। অনেকেই অভিযোগ করেন, শ্বাস নিতে কষ্ট, চোখ জ্বালা, মাথা ঘোরা ও দীর্ঘস্থায়ী কাশির মতো সমস্যা এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, “রাত বারোটার পর থেকে ভোর পর্যন্ত বাতাসে এমন গন্ধ ছড়ায় যে বাইরে দাঁড়ানোই যায় না। প্রতিনিধি যদি এক রাত এখানে কাটান, তিনিও বুঝতে পারবেন আমরা কী অবস্থায় আছি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পোড়ানো বর্জ্যের ধোঁয়ায় ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গত তিন বছর ধরে পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় অনেকেই নিজেদের ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “শিশুরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জির সমস্যা বেড়েছে। আমরা সুস্থভাবে বাঁচতে চাই।”
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন রাতের বেলায় সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন এবং প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা অবিলম্বে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্জ্য পোড়ানো হলে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—“আমরা কি বিশুদ্ধ বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকারটুকুও পাব না?”
পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, যাত্রাবাড়ী-মাতুয়াইলের রাত আরও দীর্ঘ ও বিষাক্ত হয়ে উঠবে—এমন আশঙ্কাই এখন বাসিন্দাদের মুখে মুখে।






