ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপট নিয়ে ছিল তুমুল আলোচনা। মাঠে-ময়দানে সরব প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা এবং গণমাধ্যমের শিরোনামে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে মিলেনি সেই প্রতিফলন। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা লড়াইয়ে নামলেও সবাইকে মেনে নিতে হয়েছে শোচনীয় পরাজয়।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর-কে শুরু থেকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছিল। এলাকায় তার সক্রিয় প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৮ হাজার ৭৪৪ ভোট—যা তার প্রত্যাশার ধারেকাছেও নয়।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও চারবারের এমপি রেজাউল করিম। কিন্তু ফলাফল ছিল হতাশাজনক—মাত্র ৪ হাজার ৫৯৬ ভোট।
একই আসনে আরেক সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট, যা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও স্বতন্ত্রদের চিত্র একই। এখানে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৭৭৯ ভোট—যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছেও বিস্ময়কর।
অন্যদিকে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ আলম তুলনামূলক ভালো করলেও জয় থেকে ছিলেন অনেক দূরে। তার প্রাপ্ত ভোট ৩৯ হাজার ৫৮৯।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৩৪ হাজার ১৫১ ভোট—যা আলোচনার তুলনায় অনেকটাই কম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে দলীয় সমর্থন, সাংগঠনিক শক্তি এবং তৃণমূল পর্যায়ের ভোটারদের বাস্তব সিদ্ধান্তই ফলাফল নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। ব্যক্তিগত প্রভাব, অতীত রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা আলোচিত প্রচারণা—এসব আর আগের মতো কার্যকর হয়নি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বতন্ত্র হেভিওয়েটদের এই ভরাডুবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—ভবিষ্যতে কি ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতি টিকবে, নাকি দলীয় শক্তির দাপটই নির্ধারণ করবে ভোটের ফলাফল?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিল বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।








