নারায়ণগঞ্জ । শুক্রবার
১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুমকির মুখোমুখি প্রভাবশালী হেভিওয়েট প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা! নেপথ্যে রয়েছে কে ?

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসন। এই আসনে সংসদ সদস্য পদে লড়ছেন মোট ১৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ২ জন স্বতন্ত্র ও ১৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হলেও বাস্তবে নির্বাচনী মাঠের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মাত্র ৪ জন হেভিওয়েট প্রার্থী।

আলোচিত এই চারজন হলেন—বিএনপি-জমিয়তে জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও একাধিকবার বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করা মোহাম্মদ শাহ আলম।

জানা গেছে, চার প্রার্থীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত প্রভাব ও সাংগঠনিক শক্তির কারণে এই আসনে ভোটের লড়াই হবে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও জমজমাট—এমনটাই মনে করছেন সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। নির্বাচনী মাঠে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে হুমকি-ধামকির অভিযোগ। আলোচনায় থাকা চার প্রার্থীর মধ্যে তিনজন প্রার্থী—মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহ আলম—অভিযোগ করেছেন যে, তাদের নেতাকর্মী ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে অভিযোগকারীরা এখনো স্পষ্ট করে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নাম উল্লেখ করেননি, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ অভিযোগকারী তিনজনই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—কারা দিচ্ছে এই হুমকি? কেন এবং কী উদ্দেশ্যে?


এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ রায়হান কবির।

মঙ্গলবার(২৭ জানুয়ারি) উপজেলা পরিষদে আয়োজিত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় তিনি বলেন,“নির্বাচনে যারা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি।”

তিনি আরও বলেন,“কেউ যদি নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাহলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের কাছে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান।”

তবে জেলা প্রশাসক প্রার্থীদের লিখিত অভিযোগ দাখিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমকির অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই, তবে অভিযোগকারীরা যদি হুমকিদাতাদের পরিচয় প্রকাশ না করেন, তাহলে প্রশাসনের জন্য বিষয়টি ধোঁয়াশায় রয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে প্রার্থীদের উচিত সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ লিখিত অভিযোগ দেওয়া।

সবমিলিয়ে হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই, হুমকির অভিযোগ ও প্রশাসনের কড়া অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এখন পুরো জেলার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শেষ পর্যন্ত এই আসনে কার হাসি ফুটবে, সেদিকে তাকিয়ে আছে পুরো নারায়ণগঞ্জবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >