বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় নাম উঠে এসেছে জনৈক অনিল পণ্ডিতের। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত যাঁর বিরুদ্ধে কোনও উল্লেখযোগ্য অপরাধ নথিভুক্ত ছিল না, আজ তিনিই কুখ্যাত লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের হয়ে অন্তত ১২টি তোলাবাজির মামলায় প্রধান অভিযুক্ত। ক্যালিফর্নিয়ায় বসে অপরাধের জাল বিস্তার করা অনিল ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এখন কঠোর পদক্ষেপ করছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের ব্যস্ত জুহু এলাকায় অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় তিন দুষ্কৃতী। অভিনেতা অক্ষত থাকলেও, জখম হয়েছেন তাঁর গাড়িচালক ও এক অনুরাগী। এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করেন অনিল ও তাঁর সহযোগী হরমন সঁধু। বিনোদন জগতের তারকাদের হুমকি দিয়ে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সিন্ডিকেটের কথা না-শুনলে কী পরিণতি হতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ত্রিশের অনিলের বাড়ি হরিয়ানার পানিপত জেলার রাই কালান গ্রামে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৩ সালে ভারত ছাড়ার আগে পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশের খাতায় তাঁর নামে কোনও বড় অপরাধ নথিভুক্ত ছিল না। বর্তমানে ক্যালিফর্নিয়া থেকে তিনি এই তোলাবাজির সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। বিশ্নোই গ্যাংয়ের অন্যান্য কুখ্যাত সদস্য— হরমন সঁধু, হ্যারি বক্সার, শুভম লোনকর ও রণদীপ মালিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতীয় তারকা ও ব্যবসায়ীদের থেকে তোলা আদায়ের চক্র পরিচালনা করছেন অনিল।
শুধু টাইগার শ্রফের মামলাই নয়, এর আগেও একাধিক বড় অপরাধের সঙ্গে অনিলের নাম জড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে দিল্লির পশ্চিম দিল্লিতে পঞ্জাবি গায়ক গুরু রনধাওয়ার জিমের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। সমাজমাধ্যমে সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিলেন অনিল। এ ছাড়া হরিয়ানার ভিওয়ানিতে খ্যাতনামী গায়ক দিলে খড়কিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনাতেও অনিলের দলের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পানিপত, সোনিপত ও কর্ণালের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিশ্নোই গ্যাংয়ের হয়ে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগেও অনিল পণ্ডিতের নাম পুলিশের তালিকার শীর্ষে।বিদেশ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং ভয় দেখিয়ে তোলা আদায়ের এই কৌশল এখন তদন্তকারীদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ। পুলিশ মনে করছে, তারকা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের মনে আতঙ্ক তৈরি করতেই এই ধরনের হামলার পর ‘বুক ফুলিয়ে’ তা স্বীকার করে নেয় বিশ্নোই গ্যাং। ইতিমধ্যেই এই মামলার সঙ্গে যুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ক্যালিফর্নিয়ায় বসে থাকা অনিলকে দেশে ফেরানোর পথ খুঁজছেন তদন্তকারীরা। তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের এনডিআর বিভাগ।







