নারায়ণগঞ্জ ।
,

নিষেধাজ্ঞার ভয় আর বিদ্রুপ পেছনে ফেলে অ্যানফিল্ডে সিটির দাপুটে জয়

প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার ১০০টিরও বেশি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই প্রথম মাঠে নামল ম্যানচেস্টার সিটি। সেই ম্যাচেই তারা ১০ জনের লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। কঠিন শাস্তির ভয় সিটির খেলায় কোনো ছাপ ফেলেনি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোল করেন আর্লিং হালান্ড, জেরেমি ডকু ও রায়ান শেরকি। দুই হলুদ কার্ড দেখে রায়ান গ্রাভেনবের্খ মাঠ ছাড়ার পর খেলার মোড় ঘুরে যায়। এনজো মারেস্কার অধীনে সিটির শতভাগ জয়ের শুরু তাই আরও লম্বা হলো। এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে সিটির তিন পয়েন্টের লিড আবার ফিরে এল।

তবে শিরোপার স্বপ্ন নির্ভর করছে একটি বড় রায়ের ওপর। আর্থিক অনিয়মের রায়ের বিরুদ্ধে সিটি আপিল করেছে। একটি স্বাধীন কমিশন বলেছে, সিটি ও তাদের আমিরাতি মালিকেরা ‘ভুয়া’ চুক্তি করেছিল। এর মাধ্যমে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং খরচ কমানো হয়েছে। এর পরিমাণ ৯০ কোটি পাউন্ডের বেশি, যা প্রায় ১২০ কোটি ডলার।

এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। আপিলে হেরে গেলে সিটির বড় অঙ্কের পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। এমনকি ইংলিশ শীর্ষ লিগ থেকে বহিষ্কারের কথাও আলোচনায় আছে। কেউ কেউ বলছেন, পুরোনো শিরোপাও কেড়ে নেওয়া হতে পারে। 

এই ঘটনার পর সিটি গত রাতেই প্রথমবার মাঠে নেমেছিল। তারা পুলিশের নিরাপত্তায় অ্যানফিল্ডে পৌঁছায়। শত্রুতাপূর্ণ অভ্যর্থনার আশঙ্কা ছিল। তবে ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচের আগের মতো সহিংসতা এবার হয়নি। সেবার সিটির দলের বাসে বোতল ছোড়া হয়েছিল। তবে এবার লিভারপুল সমর্থকেরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ‘প্রতারক’ আর ‘নিচে নামবে’ বলে স্লোগান দেন। স্মারক বিক্রির দোকানগুলোতে সিটির আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে ঠাট্টা করা পতাকা ও স্কার্ফ ভরে ছিল। বিখ্যাত কপ স্ট্যান্ডের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘একটি পুরো প্রজন্মের সমর্থকদের ঠকানো হয়েছে।’

গার্দিওলার সিটি আর ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলের লড়াই গত কয়েক বছরে প্রিমিয়ার লিগের সেরা আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সারা বিশ্ব যখন তাকিয়ে ছিল, তখন লিভারপুল মাঠে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি।

লিভারপুলের নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলা এই ম্যাচে ছিলেন বেশ সমস্যায়। চোটের কারণে দলে ছিলেন না দোমিনিক শবোস্লাই, আলেক্সান্ডার ইসাক ও কোডি গাকপো। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই এই স্প্যানিশ কোচের প্রথম হার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্বাগতিকেরা কিছুক্ষণ চেষ্টা চালায়। প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবার শুরুর একাদশে থাকা লুইস কউমাসের গোল ঠেকিয়ে দেন জানলুইজি দোন্নারুম্মা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মারেস্কা বেঞ্চ থেকে ডকুকে নামান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই বেলজিয়ান উইঙ্গারকে ফাউল করেন গ্রাভেনবের্খ। তিনি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। এরপর লিভারপুল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

শেষ ২৫ মিনিট বাকি থাকতে ডকুর শটে বল লেগে দিক বদলায়। হালান্ড সেই বল জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে ব্যবধান গড়ে দেন। এর তিন মিনিট পর ডকু নিজেই দারুণ এক শটে ওপরের কোণা দিয়ে বল জালে জড়ান। শেষে শেরকি ইয়স্কো গভার্দিওলের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলেন। তারপর আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে তিনি লিভারপুলের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >