নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র—জনতা হত্যা মামলায় বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রাসেল চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাসেল চৌধুরী বক্তাবলীর কানাইনগর এলাকার মৃত সালাম চৌধুরীর ছেলে। তিনি বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি মেম্বার। স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।
আন্দোলন চলাকালে রাসেল তার দলীয় নেতাকর্মী ও ক্যাডারদের সাথে একত্রিত হয়ে ছাত্র—জনতার উপর স্বশস্ত্র হামলা চালিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র—জনতা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে, গ্রেফতার হওয়া রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক।
তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে এলাকায় জমি দখল ও প্রতিপক্ষকে হত্যার চেষ্টা চালানো সহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এর মধ্যে আসাদ উল্লাহ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা রাসেল চৌধুরী ও তার ভাই ফয়সাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ভুক্তভোগী আসাদ উল্লার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রাসেল চৌধুরীর বাবা সালাম চৌধুরী জীবিত থাকাবস্থার তার কাছ থেকে চর বক্তাবলী মৌজার ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রাসেল ও তার ভাই পরবর্তীতে জমিটি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে নেয়।
এদিকে, ২০২৩ সালে রাসেল চৌধুরীকে একটি হত্যা—চেষ্টার মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
এদিকে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝেও উঠে আসে রাসেল চৌধুরীর নাম। তিনি আওয়ামী লীগের চিহ্নিত ও সক্রিয় নেতা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র—জনতা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছিল না— সেই প্রশ্ন বেশ জোরালো হয়ে উঠে।
অবশেষে শুক্রবার বক্তাবলীর কানাইনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
এদিকে, রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির কর বা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করে অর্থ আত্মসাৎ করে রাসেল মেম্বার। যা নিয়ে তুমুল বিতর্কে জড়িয়ে ছিল এই ইউপি সদস্য।



