নারায়ণগঞ্জ ।
,

সরব হচ্ছে আ.লীগ, টার্গেট ডিসেম্বর!

আবারও মাঠে ফিরতে তৎপর হয়ে উঠছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ। আগামী ডিসেম্বরে তারা প্রকাশ্যে রাজপথে ফিরবে বলে ঘোষণা দিয়ে আসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এতে করে নেটিজেনরা ফেসবুকেও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরব হয়ে উঠেছে। পক্ষে বিপক্ষে চলছে মন্তব্যের লড়াই। ফেসবুকের এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে চায়ের দোকানেও।

কেউ কেউ বলছেন, নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান এবং শীর্ষ নেতারা বিদেশে ঘাপটি মেরে থেকেও এই ধরনের হুংকার ছাড়ছেন। মূলত, রাজনীতিতে না থেকেও নেতাকর্মীদের হারিয়ে যাওয়া মনোবল বৃদ্ধি ও আলোচনায় থাকার কৌশল করছে আওয়ামী লীগ।

নারায়ণগঞ্জের পলাতক ও সাবেক এমপি আলোচিত শামীম ওসমানও নাকি সেই কৌশল অবলম্বন করছেন। ইতিমধ্যেই তিনি বিদেশে থেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। দিচ্ছেন নানা ভাষনও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় পলাতক নেতাদের নিছক এই হুংকারের পর নারায়ণগঞ্জে থাকা তাদের মাঠ পর্যায়ের অনুসারীরাও আবেগতারিত হয়ে ঝটিকা মিছিল মিটিং চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে অনেকেই গ্রেফতারও হচ্ছে।

জানা গেছে, ছাত্র-জনতার অভুত্থানের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনকালের অবসান ঘটে। গ্রেফতার ও রোষানল এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায় দলটির সুভিধাভোগী নেতাকর্মীরা। অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, আবার অনেকে হয়েছে গ্রেফতার। এমন পরিস্থিতিতেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজপথে ফেরার নানা চেষ্টা চালাতে দেখা গিয়েছিল নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের।

অর্থবৃত্তে ফুলে ফেঁপে উঠা নেতারা দুহাতে টাকা ঢেলে কতিপয় কর্মীদের রাজপথে নামানোর চেষ্টা চালালেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের তৎপরতার দরুন তেমন সুবিধা করতে পারেনি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। আগে রাতের আঁধারে ঝটিকা মিছিল করলেও বর্তমানে দিনে দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে ব্যানার লাগানো ও শ্লোগাণের মত দুঃসাহসিক কার্যক্রম চালাতে দেখা গিয়েছিলল নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ কর্মীদের।

জানা গেছে, ধীরে ধীরে দলটির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগকে আলোচনায় আনতে শুরু করেছেন। শুরুতে নারায়ণগঞ্জে শেখ হাসিনা ও শামীম ওসমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের ছবি সংবলিত দেয়াল পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার পারদ তুঙ্গে উঠেছিল। পরবর্তীতে প্রকাশ্যেই রাজপথে ঝটিকা মিছিল করতে শুরু করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা। ঝটিকা মিছিলে ভাড়া করা লোকদেরও নামানো হয়েছিল। এসবের অর্থ যোগান দিচ্ছে বিদেশে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা।

মূলত, নেতারা বিদেশে বসে অর্থ ডোনেটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পূনরায় সংগঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নানা ভাবে নিজেদেরকে জানান দিচ্ছে। চালিয়ে যাচ্ছে ঘুরে দাড়ানোর প্রচেষ্টা।

এদিকে, আওয়ামী লীগের এই তৎপরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখা গেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সহ অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের সকল অপতৎপরতা প্রতিরোধে রাজপথে প্রহরির ভূমিকায় ছিলেন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল সহ অন্যান্য অঙ্গ-সংঠনের নেতাকর্মীরা।

এই অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি এবং চলমান প্রেক্ষাপটে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। উত্তেজনা বাড়ছে রাজনীতিকাঙ্গণে। আগামীতে কী অপেক্ষা করছে, তা ভাবিয়ে তুলছে সাধারণ মানুষকেও।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দৃষ্টি রাখা প্রবীন ব্যক্তিরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলেও নারায়ণগঞ্জে ভিন্ন কৌশলে আগাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা। আত্মগোপনে থাকা নেতারা মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অর্থের বিনিময়ে রাজপথে আন্দোলনের নামে তাণ্ডব চালিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ক্ষমতায় থাকাকালীন নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাপটে অনেকেই ছিলেন অসহায়। শামীম ওসমান তথা ওসমান পরিবারের ছায়ায় থাকা আওয়ামী ক্যাডারদের দৌড়াত্ম এই জেলার মানুষের কাছে বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর শাসন চালিয়ে অবশেষে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র—জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের কৃতকর্মের বিচার হওয়ার পূর্বেই আবারও রাজপথে ফিরতে শুরু করেছে দলটির কর্মীরা। প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগকে পূনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করছে কারা?

যদিও এই প্রশ্নে অনেকেই আঙুল তুলছে সুবিধাভোগী ও অর্থলোভী কিছু ব্যক্তিবর্গের উপর। আবার প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকেও দায়ি করছেন কেউ কেউ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >