বিশেষ প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আলোচিত এক নাম জাকির খান। দলীয় কোনো পদ-পদবী না থাকলেও জাকির খানকে বিএনপির ব্র্যান্ড মনে করে থাকেন তার অনুসারীরা। বিপুল কর্মী বাহিনী থাকায় জাকির খান যে, নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা; তা অস্বীকার করেন না তার নিন্দুকরাও। তবে প্রভাবশালী এই নেতার ডান হাত বা সেকেন্ড ইন কমান্ড হতে অদৃশ্য প্রতিযোগীতায় নেমেছেন আলোচিত-সমালোচিত দুই সন্ত্রাসী। তারা উভয়েই আবার আওয়াওমী লীগের ক্যাডার ছিলেন! শুনতে চোখ কপালে উঠার উপক্রম হলেও বাস্তবে চলছে এমনটাই।
৫ আগস্টের পর ভোলপাল্টে আওয়ামী লীগ থেকে রাতারাতি বিএনপিতে এসে জাকির খানের লোক বনে যাওয়া ওই দুই ক্যাডারের নাম সোয়াদ হোসেন বান্টি ও ফারুক আহমেদ রিপন। এরমধ্যে বান্টি শহরের ২নং রেলগেইট এলাকার বাসিন্দা এবং রিপন শহীদনগর সুকুমপট্টি এলাকার বাসিন্দা।
বান্টি আওয়ামী লীগের আমলে শহরের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে শহরে দাপিয়ে বেড়াতেন। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজী, নারী দিয়ে ব্ল্যাক মেইলিং ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে বান্টি ছিলো আলোচিত এক নাম।
অন্যদিকে, শহীদ নগর এলাকার বাসিন্দা রিপন নানা কারণেই ছিলেন সমালোচনায়। তিনি কখনো মেয়র আইভী, কখনো শামীম ওসমান, কখনও অয়ন ওসমান, কখনো কথিত ছাত্রলীগ ক্যাডার কাউসার কখনও আবার আজমেরী ওসমানের ছায়ায় থেকে চালিয়ে গেছেন ভূমিদস্যুতা। ভেজাল সেমাই কারখানা চালিয়ে বারংবার ভ্রাম্যমান আদালতের শাস্তি ভোগ করা রিপনকে অনেকেই চেনেন সেমাই রিপন নামে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালিয়ে হত্যা কাণ্ডের ঘটনায় রিপন ও বান্টির নামে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। বান্টি আজমেরী ওসমানের হয়ে আন্দোলন বিরোধী অবস্থানে সক্রিয় ছিলেন আর রিপন অয়ন ওসমানের হয়ে ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হামলায় জড়িত ছিলেন।
এমনকি ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় রিপনকে গ্রেফতারও করেছিল পুলিশ। দীর্ঘদিন জেল হাজতে থাকার পর জামিনে বের হয়ে রিপন নিজের অবস্থার পরিবর্তন করতে ধিরে ধিরে মিশে যান জাকির খানের সাথে। চতুর স্বভাবের হওয়ায় রিপন তার নানা কলাকৌশল ব্যবহার করে জাকির খানকে ম্যানেজও করে ফেলেন। এতে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রিপনকে। তিনি জাকির খানের ছায়া হয়ে উঠেছেন। জাকির খান যেখানে যান, সেখানেই দেখা যায় রিপনকে। এমনকি বিদেশেও জাকির খানের সাথে সফর সঙ্গী হয়েছেন রিপন। জাকির খানকে বশ করে বর্তমানে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়ে উঠতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এই ভূমিদস্যু।
বিশেষ সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্ত্রাসী বান্টিও জাকির খানকে ম্যানেজ করে তার আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। বান্টিও জাকির খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হতে নানা কলাকৌশল ব্যবহার করছেন। তবে বান্টির কারণে রিপনের পথ পরিস্কার হয়ে উঠছে না। এতে জাকির খানের কর্মীদের মাঝেও বান্টি ও রিপনকে ঘিরে দুুই পক্ষ তৈরী হয়েছে।
মূলত, নিজেদের অবস্থান ও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জাকির খানের নৈকট্য লাভের আশায় বান্টি ও রিপনের মাঝে অদৃশ্য প্রতিযোগীতা চলছে। এই প্রতিযোগীতায় কে এগিয়ে আছে- তা নিয়েও খান গ্রুপের মাঝে চলছে নানা গুঞ্জন।
এদিকে, জাকির খানের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠায় বান্টি ও রিপনের ভাগ্যও খুলে যেন খুলে গেছে। বান্টি অপরাধ জগতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর রিপন চালিয়ে যাচ্ছে ভূমিদস্যুতা।
ইতিমধ্যেই শহীদনগর লুইয়ার মাঠের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে রিপনের বিরুদ্ধে। চলতি সপ্তাহে পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানা এলাকায় জুলহাস চেয়ারম্যানের বাড়িতে বসে ওই জমির বিষয়ে মিমাংসা হয়। সেখানে রিপনের পক্ষে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন জাকির খান ও তার ঘনিষ্ঠ কর্মীরা। জমি দখলে রাখলেও মিমাংসার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে রিপনের বিরুদ্ধে। জাকির খানকে বশ করে বর্তমানে রিপনের বৃহস্পতিও তুঙ্গে রয়েছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগ থেকে আসা বিতর্কিত বান্টি ও রিপনকে ছায়া দিয়ে রাখায় সচেতন মহলের অভিযোগের কাঠগড়ায় এখন জাকির খান নিজেই। গণঅভ্যুত্থান বিরোধী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিয়ে জাকির খান তা পাল্লা ভারি করতে গিয়ে বিতর্কে বিঁধছেন। এনিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। তবে এই বিষয়ে জাকির খানের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






