ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচের বিরতিতে হওয়া উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ঘানার প্রধান কোচ কার্লোস কুইরোজ। তার দাবি, বেলিংহাম তার প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, যার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফক্সবরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। ম্যাচজুড়ে ঘানার রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয় ইংল্যান্ডকে। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ঘানার ডিফেন্ডার জেরোম ওপোকুর ওপর একটি ট্যাকল করেন বেলিংহাম, যা ঘানার বেঞ্চকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
ঘানার সহকারী কোচ জন পেইন্টসিলসহ বেঞ্চের সদস্যরা ওই ট্যাকলের প্রতিবাদ জানান। এ সময় বেলিংহাম তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ইংল্যান্ড সতীর্থ মরগান রজার্স তাকে টেনে সরিয়ে নিয়ে যান।
টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, টানেলের দিকে যাওয়ার সময় বেলিংহাম ঘানার বেঞ্চের দিকে ফিরে অশালীন মন্তব্য করেন। তবে এই ঘটনার পরও রেফারি কাউকেই সতর্কবার্তা বা কার্ড দেখাননি।
ম্যাচ শেষে বেলিংহাম বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি একটি বোকামি ট্যাকল করেছিলাম। বল জয়ের চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু একটু বেশি এগিয়ে গিয়ে খেলোয়াড়টিকে আঘাত করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তাদের বেঞ্চ উঠে পড়ে লেগেছিল যেন আমি হলুদ কার্ড পাই। আমি তাদের কোচকে চিনতে পেরেছিলাম। তিনি আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ছিলেন। তার প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান আছে। আমাদের দুজনের মধ্যেই শুধু প্রতিযোগিতার মনোভাব ছিল।’
ঘানার কোচ কুইরোজ বলেন, ‘প্রথমে আমার উদ্দেশ্য ছিল তাকে শান্ত হতে বলা। কারণ সে যে ট্যাকলটি করেছিল, তা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড কিংবা সরাসরি লাল কার্ডের কারণ হতে পারত। সে আমাদের খেলোয়াড়ের দিকে পা তুলে গিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মূলত পরিস্থিতি শান্ত করতে চেয়েছিলাম। কারণ আমি চিন্তিত ছিলাম, আমাদের খেলোয়াড় পুরোপুরি ঠিক আছে কি না।’
এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে কুইরোজ বলেন, ‘সে খারাপ ভাষা ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া দেখায়। সেখান থেকেই পুরো ঘটনার শুরু।’
কুইরোজের ভাষায়, ‘টান টান মুহূর্তে এমন ঘটনা স্বাভাবিক। সে গালাগাল করেছিল, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এটা ফুটবল, বিশেষ কিছু নয়। একটি শব্দই কিছুটা উত্তপ্ত করে দিয়েছিল, তবে পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবল কোনো আনুষ্ঠানিক নৃত্য অনুষ্ঠান নয়, এটি কোনো প্রদর্শনীও নয়।’ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন টকস্পোর্টের উপস্থাপক অ্যাড্রিয়ান ডারহাম।
তিনি বলেন, ‘এটা কী ভয়াবহ খেলা ছিল! প্রতিবারই বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডকে নিয়ে আশা তৈরি হয়। হয়তো তারা গ্রুপ পর্ব পেরোবে, নকআউটেও যাবে। কিন্তু এই ম্যাচে তারা কী বার্তা দিল?’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত দ্বিতীয়ার্ধ খেলার পর সমর্থকদের সঙ্গে দলের যে সংযোগ তৈরি হয়েছিল, এই ম্যাচে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।’
ডারহাম খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার মতে, মার্ক গেহি বল নিয়ে অতিরিক্ত সময় নিয়েছেন, ননি মাদুয়েকে সহজ পাস নষ্ট করেছেন, হ্যারি কেইন আক্রমণে প্রভাব ফেলতে পারেননি এবং মার্কাস রাশফোর্ডকে অনেক দেরিতে মাঠে নামানো হয়েছে।
তার দাবি, ‘ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স অবিশ্বাস্য রকম খারাপ ছিল। খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা ছিল, সেটা স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু এই পারফরম্যান্স কোনোভাবেই যথেষ্ট ছিল না।’
এই ড্রয়ের ফলে ইংল্যান্ড ও ঘানা দুই দলই চার পয়েন্ট নিয়ে সমান অবস্থানে রয়েছে। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গ্রুপে ইংল্যান্ডের অবস্থান ভালো। এদিকে চলতি বছরের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া কুইরোজের জন্য এটি কোচ হিসেবে পঞ্চম বিশ্বকাপ আসর। এর আগে তিনি পর্তুগাল এবং টানা তিন বিশ্বকাপে ইরানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।








