বিতর্কটা ছিলো শুরু থেকেই| সেই ৫ আগস্ট; আওয়ামী লীগের পতনের পরপরই| স্থানীয় বিএনপিকে যেমন মুঠোবন্দি করে ছিলেন পিতা-পুত্র; তেমনই গোটা সোনারগাঁ জুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন সমান তালে| প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চল; সর্বত্রই খবরদারী চালিছেন বিএনপির দলীয় প্রভাব খাটিয়ে| চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজীসহ বিতর্কিত সেক্টরগুলো নিজেদের কব্জায় নিতে সন্ত্রাসের রাম-রাজত্ব চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ থাকলেও সব উপেক্ষা করে বিতর্কে জড়ানো ব্যক্তিকেই দলীয় মনোনয়ন দিয়ে যেন আগুনে ঘি ঢেলে ছিলো বিএনপির হাইকমান্ড|
স্থানীয় বিএনপির পরিচ্ছন্ন নেতাদের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেলেও তা গায়ে মাখেনি দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা| তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতে, বিতর্কিত সেই সিদ্ধান্তের-ই যেন খেসারত দিলো বিএনপি| পিতা-পুত্রের কার্যাকলাপে যেন নাককাটা গেলো বিএনপিরই| বলা হচ্ছে সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ‘সমালোচিত’ এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও তার পুত্রের কথা|
স্থানীয় তথ্য সূত্রে জানা গেছে, মান্নান এমপি হলেও আদোতে তার চালকের আসনে বসে খুটিনাটি সব কিছুরই নিয়ন্ত্রক হয়ে আছেন তারই পুত্র নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক খাইরুল ইসলাম সজিব| যেন আসনটির অঘোষিত এমপি তিনি! পিতার ক্ষমতার মোড়কে আসনজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে যাওয়া খাইরুল ইসলাম সজিব সোনারগাঁও সিদ্ধিরগঞ্জের সকল কাজের কাজী বনে গেছেন| চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজী; এমন অভিযোগে আটক হলেও শেষ পর্যন্ত ‘অন্তরালের মিমাংসার দরুণ’ মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন| দিনভর গোয়েন্দা পুলিশের ডেরায় আটক থাকার পর অবশেষে মুচলেকায় ছাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসনিক সূত্র|
এমপি পুত্র ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবের এই চাঁদাবাজী ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়ে গোয়েন্দা বিভাগের কাছে| এতে গত ২১ জুন তাকে আটক করা হয়| বিষয়টি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র| ফলে বিএনপিকে নিয়েই বিরুপ মন্তব্য করতে দেখা যায় সমালোচকদেরকে| সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা সমালোচনার খোরাক পেয়ে বসেন| সজিবকে দলীয় পদ-পদবী থেকে তাৎক্ষনিক ভাবে বহিস্কার করা হলেও কী সমালোচনার দায় এড়ানো গেছে? সেই প্রশ্নও তুলেছে নিন্দুকেরা|
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) আজহারুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত রোববার গভীর রাতে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে| তাঁর বিরুদ্ধে ওই এলাকার একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে|
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ| পরে তাঁকে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়|
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একটি বড় শিল্প গ্রুপের গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা দাবি করে সজীবের লোকজন| পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়| ওই শিল্প গ্রুপের বাইরেও বিভিন্ন কারখানার পণ্যবাহী গাড়ি আটকে দিয়ে টাকা আদায় এবং ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে| সজীব নিজে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক| হেফাজতে নেওয়ার পর তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে|
যুবদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে|
স্থানীয় পুলিশ ও একাধিক শিল্পকারখানার সূত্র বলছে, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সজীবের বিরুদ্ধে| চাহিদামতো টাকা না পেলে কারখানার পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে|







