নারায়ণগঞ্জ । বুধবার
১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, অথচ জামায়াত এমপি জন্মেছেন ১৯৮১ সালে!

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংসদে দেওয়া তার নিজের দাবি এবং নির্বাচনী হলফনামায় উল্লিখিত জন্মতারিখের মধ্যে এক বিশাল ও অবাস্তব অসঙ্গতি প্রকাশ পাওয়ায় এই বিতর্কের সূত্রপাত।

মূল ঘটনার সূত্রপাত ঘটে জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশনে মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের ওপর আলোচনার সময়। ওই অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আইনগতভাবে চিহ্নিত করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এমন প্রেক্ষাপটে সংসদে নিজের অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে এমপি আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নিজের পরিবারের অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সচেতন মহল ও অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিরা তার নির্বাচনী হলফনামা এবং ব্যক্তিগত নথিপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এক অবিশ্বাস্য ও গাণিতিকভাবে অসম্ভব এক বৈপরীত্য। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা এবং উন্মুক্ত তথ্যকোষ উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি।

গত ১৪ জুন সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওয়া সেই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’

নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে এই সংসদ সদস্য নিজেও বলেন, তার জন্ম ১৯৮১ সালে।

এই জন্মসাল সামনে আসার পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তার বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনা ও ট্রল করে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যদি তার পিতা শহীদই হয়ে থাকেন, তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ১০ বছর পর অর্থাৎ ১৯৮১ সালে আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা হিসাব কষে বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের হিসাব অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৪৪ বছর ১১ মাস, যা ১৯৮১ সালের জন্মতারিখের সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বা যুদ্ধে শহীদ হওয়া কোনো পিতার পক্ষে ১৯৮১ সালে সন্তান জন্ম দেওয়া কেবল অলৌকিক বা গাণিতিকভাবেই অসম্ভব নয়, বরং এটি একটি চরম ও হাস্যকর মিথ্যাচার।

সংসদে দেওয়া এই স্ববিরোধী বক্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত জামায়াত নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বা তার দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >