ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ যেন থামছেই না!
দায়িত্ব পালনকালে ন্যায়ের পরিবর্তে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন এমন অভিযোগ এখন সর্বত্র।
নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি থাকাকালীন সময়েই তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী একাধিক মামলার আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় তিনি নিজেকে কখনো পুলিশ সুপারের ‘ক্যাশিয়ার’ পরিচয় দিয়ে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। একই সাথে কুমিল্লার একজন এমপির নাম ব্যবহার করে পুলিশ বিভাগে দাপট দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অপকর্ম।
পরবর্তীতে ফতুল্লা থানায় বদলি হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি বরং আগের ধারাবাহিকতায় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি।
বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও থেমে না গিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের হুমকি, মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ধর্ষণ মামলায় সালাউদ্দিন নামের এক আসামিকে গ্রেফতারের পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা।
জানা গেছে, বিতর্কিত ইট ও বালু ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন নামে ওই আসামিকে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকা থেকে আটক করে প্রায় ১০ ঘণ্টা থানার হাজতে রাখা হয়। এরপর রাতের আঁধারে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো হাজত থেকে ছাড়া পেয়ে নিজেই এ ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, “মান-সম্মান যা যাওয়ার গেছে ভাই, টাকাও গেছে আমি এখন মুক্তি পেয়েছি, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আল্লাহ এর বিচার করবে।
তার এই বক্তব্য ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আকলিমা (ছদ্মনাম) নামের এক নারীকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার নির্যাতন চালায় এই সালাউদ্দিন। ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হলেও শেষ পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে ‘মীমাংসা’ দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় যা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
ঘটনার বিষয়ে ওসি মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের কাছে সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও ফতুল্লা থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) স্বীকার করেছেন যে, মীমাংসা হওয়ায় আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই বক্তব্যই পুরো ঘটনার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল নেহেদী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ধর্ষণ মামলা কোনোভাবেই থানায় মীমাংসার সুযোগ নেই। এমন ঘটনা সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ভয়াবহ অভিযোগ শুধু পুলিশের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই যদি আইনের অপব্যবহার করেন, তাহলে বিচার কোথায় মিলবে এই প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্রঃ যুগের নারায়ণগঞ্জ








