টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও কাঁদা সৃষ্টি হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পশুর হাটে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শুরু করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন হাটগুলোতে এখন জমে উঠেছে পশুর বাজার। তবে বৃষ্টির কারণে হাটের ভেতরে কাদা ও জমে থাকা পানিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, খামারি ও ক্রেতারা।
রোববার (২৫ মে) ফতুল্লা এলাকার কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটের ভেতরের অনেক জায়গা হাঁটুসমান কাদাপানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাঁশ ও কাঠ ফেলে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু ও ছাগল নিয়ে এসে হাটে অবস্থান করছেন তারা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে পশু শুকনো জায়গায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পশু কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, “দুই দিন ধরে বৃষ্টির কারণে খুব কষ্টে আছি। হাটের ভেতরে পানি জমে গেছে। গরুকে ঠিকমতো খাবার দিতেও সমস্যা হচ্ছে। ক্রেতারাও কম আসছে। এক খামারি বলেন, “গরু নিয়ে অনেক আশা করে হাটে এসেছি। কিন্তু বৃষ্টি সব এলোমেলো করে দিয়েছে। মানুষ কাদা মাড়িয়ে ভেতরে আসতে চাচ্ছে না।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে হাটের আশপাশের সড়কেও ধীরগতিতে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে মহাসড়ক সংলগ্ন হাটগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রতিবছরই বৃষ্টি হলে পশুর হাটে একই অবস্থা তৈরি হয়। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। কয়েকটি হাটে অতিরিক্ত বালু ফেলা ও অস্থায়ী ড্রেন তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদের আগে জমে ওঠা পশুর হাটে বৃষ্টির কারণে বাড়ছে ভোগান্তি। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে শেষ মুহূর্তের কেনাবেচায়ও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।






