নারায়ণগঞ্জ । সোমবার
২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসি জাহিদের দেওয়া হুইলচেয়ারে বদলে গেল প্রতিবন্ধী শওকতের জীবন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নতুন মোটরচালিত হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন ২৮ বছর বয়সী শওকত হোসেন। পাশে দাঁড়িয়ে মা সানু বেগমের চোখে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ। দীর্ঘদিন পর তাঁর মনে হলো, ছেলেটা এবার নিজের মতো চলতে পারবে।

বন্দর থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শওকত জন্মের দুই বছর পর থেকেই প্যারালাইজড। জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ঘরের এক কোণে। বাবা নুর মোহাম্মদ নিরাপত্তাকর্মী। সীমিত আয়ে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় পরিবারটিকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

সানু বেগম জানান, একটি হুইলচেয়ারের জন্য তিনি অনেকের দ্বারে গেছেন। আশ্বাস মিললেও সহায়তা পাননি। শেষ ভরসা হিসেবে গত বুধবার তিনি যান সারা বাংলাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে।

“আমি মোটরের হুইলচেয়ার চাইতেও পারিনি। শুধু বলেছিলাম, একটা হুইলচেয়ার হলে ছেলেটা একটু বসতে পারত। স্যার ধৈর্য ধরে শুনেছেন,” বলেন সানু বেগম।

জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। শনিবার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শওকতের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন মোটরচালিত হুইলচেয়ার। পাশাপাশি ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার কেনার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।

“বৃষ্টির সময় ঘরে পানি পড়ে। আমার পঙ্গু ছেলেটা ভিজে থাকত। এখন অন্তত হুইলচেয়ার নিয়ে একটু বাইরে যেতে পারবে,” বলেন সানু বেগম।

সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সমাজের অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের লাল ভবনের সামনে সেদিন কোনো বড় রাষ্ট্রীয় ঘোষণা হয়নি। কিন্তু এক অসহায় পরিবারের জন্য সেটি ছিল জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বিকেল। কারণ, কখনো কখনো একটি হুইলচেয়ার শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়—এটি হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার নতুন সাহস।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >