রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি)-এর সাবেক নিবন্ধক (অতিরিক্ত সচিব) মিজানুর রহমান (এনডিসি) এবং তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারক নং ০০.০১.০০০০.৫০২.০১.০৭০.২৫/২৮০১১, তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬-এর নোটিশ অনুযায়ী, আরজেএসসির সাবেক নিবন্ধক মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
নোটিশে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, সাবেক পিএ মো. তাজুল ইসলাম (সাবেক সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, বর্তমানে এক্সামিনার অব অ্যাকাউন্টস)-কে ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে দুদকে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আরজেএসসিতে বিভিন্ন ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে মিজানুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব অনিয়ম আরও বৃদ্ধি পায়। এছাড়া কিছু দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কোম্পানির ফাইল রেকর্ডভুক্ত করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক পিএ তাজুল ইসলাম এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বর্তমান নিবন্ধক (অতিরিক্ত সচিব) নূরুন্নবী কবিরের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মহলে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন আরজেএসসিতে প্র্যাকটিসরত কয়েকজন আইনজীবী ও স্টেকহোল্ডার। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






