আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও যানজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অংশ সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর এলেঙ্গা হতে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত অংশে বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। মহাসড়কের এই অংশে বর্তমানে যানবাহনসমূহ কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে যমুনা সেতু এলাকায় সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও যুগ্মসচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী।
এলেঙ্গা হতে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কের বর্তমান ট্র্যাফিক বিন্যাস এবং আসন্ন ঈদের প্রস্তুতি সম্পর্কে এক বিবৃতিতে সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, বিগত বছরগুলোতে উত্তরবঙ্গগামী সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশটি একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে এবার সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতাধীন চলমান উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে আমরা কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে অন্যতম হলো—নির্মিত ২ লেনের সার্ভিস সড়ক এবং বিদ্যমান ২ লেনের মূল সড়কের সফল সমন্বয়। এর মাধ্যমে পুরো অংশে কার্যত ৪ লেনের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গ ও ঢাকামুখী উভয় প্রান্তের যানবাহন এখন কোনো ধরনের কৃত্রিম যানজট ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক গতিতে যাতায়াত করতে পারবে। এছাড়াও, যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর থেকে ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ২ লেনবিশিষ্ট ৭০০ মিটার রিজিড পেভমেন্ট সড়ক যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
আসন্ন ঈদের প্রস্তুতি বিষয়ে পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) বলেন, এলেঙ্গা বাজার ফ্লাইওভার এলাকায় উভয় পাশে ২ লেন করে সড়ক ৪ লেনে প্রশস্তকরণ করায় এবং পর্যাপ্ত বাস-বে নির্মাণের ফলে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে যে যানজটের সৃষ্টি হতো, তা এবার পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হবে। একই সাথে রাতের বেলা চালকদের সুবিধার্থে আমরা রিফ্লেকটিভ স্টিকারসহ বাঁশের খুঁটি ও টেকসই কংক্রিট ডিভাইডারের ব্যবস্থা করেছি। তিনি আরও বলেন, এবারের ঈদে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশে যান চলাচল সচল ও নির্বিঘ্ন রাখতে আমাদের মাঠপর্যায়ের টিম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রকল্প প্রকৌশলীরা সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবেন। সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এর আওতায় এলেঙ্গা হতে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কটির একপাশে পৃথক ২ লেনের সার্ভিস সড়কসহ মূল ৪ লেন অর্থাৎ সর্বমোট ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজ এগিয়ে চলছে। আসন্ন ঈদে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে মহাসড়কটিতে বর্তমানে কার্যত চার লেনের সুবিধা সচল করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহন: ইতোমধ্যে সফলভাবে নির্মিত ২ লেনের নতুন সার্ভিস সড়ক দিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে উত্তরবঙ্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ঢাকামুখী যানবাহন: বিদ্যমান ২ লেনের মূল সড়কটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ঢাকার অভিমুখে চলাচল করছে।
গণপরিবহনগুলো যেন যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করিয়ে যানজটের সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য এলেঙ্গা বাজার এলাকায় উত্তরবঙ্গমুখী ও ঢাকামুখী উভয় লেনের জন্য পৃথকভাবে ২টি স্থায়ী বাস-বে নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও সড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আরও বেশ কয়েকটি বাস-বে সচল করা হয়েছে। পাশাপাশি, বর্ষা বা আকস্মিক বৃষ্টিতে মহাসড়কে যেন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য এলেঙ্গা বাজার এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। রাতের বেলা এবং ঘন ট্র্যাফিকের সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রকল্প এলাকা জুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্মাণাধীন এলেঙ্গা বাজার ফ্লাইওভার অংশে যেন ঈদে কোনো ধরনের কৃত্রিম যানজট বা গতিহ্রাস না ঘটে, সেজন্য বিশেষ নকশায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফ্লাইওভারের উভয় পাশে দুই লেন করে সর্বমোট ৪ লেন সড়ক প্রশস্তকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে এই বাজার এলাকায় স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করতে পারছে।
নির্মাণাধীন উত্তরবঙ্গমুখী নতুন মূল ২ লেন সড়ক এবং সচলকৃত সার্ভিস সড়কের মধ্যবর্তী অংশে টেকসই কংক্রিটের সড়ক বিভাজক স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, মহাসড়কের সংবেদনশীল ও বাঁকযুক্ত অংশগুলোতে চালকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বাঁশের খুঁটির সাথে উচ্চমানের রিফ্লেকটিভ স্টিকার যুক্ত করা হয়েছে, যা রাতে দূর থেকেও দৃশ্যমান হয়।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং সচিব, সেতু বিভাগ ও নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে পদ্মা সেতু এবং যমুনা সেতু এলাকায় আরও কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ প্রদান, অত্যন্ত দক্ষ টোল কালেক্টরদের নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালুর ব্যবস্থা, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ETC চালু, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে উন্নত ট্র্যাফিক মনিটরিং, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনারোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ; সেতুর প্রতি ৩০০ মিটার পর পর সার্বক্ষণিক সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ১টি ভারী রেকারসহ মোট ৩টি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত রেসকিউ কার্যক্রম সম্পন্নকরণ, দ্রুত টোল পরিশোধের সুবিধার্থে টোল বুথে প্রয়োজনীয় অঙ্কের খুচরা (ভাংতি) টাকার সংস্থান রাখা, কোরবানির পশু বহনকারী গাড়িগুলোকে Weighing Scale Machine-এর আওতামুক্ত রাখা, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিম, অ্যাম্বুলেন্স সদা প্রস্তুত রাখা, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু ও জরুরি প্রয়োজনে টোলপ্লাজার পাশে সুপেয় পানির ব্যবস্থা ইত্যাদি।
এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশে বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গৃহীত সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে আসন্ন ঈদের সময়ে যানবাহন চলাচলের কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা যানজটের আশঙ্কা নেই।






