কক্সবাজার জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আয়োজিত মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলার পুলিশ সুপার।
সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জের বিষয় তুলে ধরেন তারা। পুলিশ সুপার মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং জেলা পুলিশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, কক্সবাজার জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে আরও দায়িত্বশীল, সৎ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের জানমাল রক্ষার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও মনোবল বৃদ্ধিতেও জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের প্রতিটি সদস্যের আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, সততা ও মানবিক আচরণ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে বিশেষ অবদান রাখা কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়। পুলিশ সুপার তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন এবং ভবিষ্যতেও নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী জেলার শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
কল্যাণ সভা শেষে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এপ্রিল-২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি, চলমান মামলার তদন্ত কার্যক্রম এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিশেষভাবে মাদক, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, অপহরণ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘদিন তদন্তাধীন মামলাগুলো দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।
সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য পুলিশকে জনবান্ধব আচরণ করতে হবে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, জনগণের সঙ্গে সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি থানাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক ও মানবপাচারের মতো সামাজিক অপরাধ দমনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিটকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
জেলা পুলিশের এ মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভাকে ঘিরে কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সভা পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








