নারায়ণগঞ্জ । শুক্রবার
১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদ আলীতে উচ্ছ্বসিত ফতুল্লাবাসী

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। তিনি নির্বাচন করছেন; এমন ঘোষণার পর থেকে ফতুল্লাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে যেই উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছিল- মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের পর সেই উচ্ছ্বাসের পালে লেগেছে নতুন হাওয়া। চারিদিকে তাকে নিয়ে ‘রব’ উঠেছে। তার কর্মী সমর্থকদের মাঝেও দেখা দিয়েছে বাড়তি উন্মাদনা।


তারা বলছেন, অবহেলিত জনপদ ফতুল্লার উন্নয়নের জন্য প্রসিদ্ধ রাজনীতিবীদ ও বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর বিকল্প নেই। তার হাত ধরেই পিছিয়ে পরা এই জনপদ সেঁজে উঠবে নতুন করে- এমন প্রত্যাশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন ফতুল্লাবাসী।


জানা গেছে, রাজধানীর অতি সন্নিকটের এক জনপদ নারায়ণগঞ্জ। এ জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল ভাবা হয় ফতুল্লা থানাকে। বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এই অঞ্চলটি একাধারে ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনই ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও থাকছে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। বিগত বেশ কয়েক দশক ধরে এই ফতুল্লাকে কেন্দ্র করেই নির্ধারিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক নানা গতিপথ। পর্দার এপিঠ-কিংবা ওপিঠ; উভয় ক্ষেত্রেই রাজনীতি এবং ভোটের মাঠের এই গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভূমিকা রেখে চলেছেন ‘ঝানু’ রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিত বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। যিনি তার নিজস্ব ক্যারিশমায় অর্জন করেছেন ‘কিং মেকার’ খেতাব। রাজনীতির জটিল খেলায় তিনি যেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি! ভোটের মাঠে ‘রহস্য পুুরুষে রূপ নেয়া’ এই সাবেক এমপিকে ঘিরে তাই উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই ফতুল্লার সাধারণ ভোটারদের।


তথ্য মতে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের বৃহৎ একটি অংশ এবং ফতুল্লার সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা চলছে মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে। তারা মোহাম্মদ আলীকে এই আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়ে বহু আগে থেকেই নিজ নিজ উদ্যোগে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। মানুষের আগ্রহের কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনিও সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করার। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করা সাবেক এই এমপি মানুষের প্রত্যাশার কথা বিবেচনায় নিয়েই মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।


এদিকে, এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহ-আলম বলয়ে হতাশার মেঘ জমেছে বলে নানা কথা চাউর হচ্ছে। ভোটের মাঠে ইতিমধ্যেই তিনি নানা কারণে বিতর্কে জড়িয়েছেন। তার থেকে সুবিধা ভোগ করা একটি পক্ষ তার হয়ে প্রচার-প্রচারণা চালালেও বিএনপির মূলধারার নেতৃবৃন্দরা তার পাশে নেই। দুর্দিনে তিনি দলের স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতি থেকে ঘোষণা দিয়ে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তার উপর ফতুল্লাবাসীর সুখে দুঃখেও তাকে দেখা যায়নি। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও নির্বাচনি বৈতরণী পাড় হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে শাহ-আলমের অনুসারীদের মাঝে। তার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা এখন কিং মেকার খ্যাত মোহাম্মদ আলী নিজেই।


কথিত আছে, ২০০৮ সালে কল্যাণ পার্টি থেকে বিএনপিতে টেনে এনে তাকে দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। রাজনীতিতে তিনি শাহ-আলমের গুরু হিসেবেই সর্বত্র সমাদৃত। এবার সেই গুরুর মুখোমুখি হওয়াতেই যেন কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তার।


উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনির হোসেন কাসেমীকে সমর্থন করতে পারে বিএনপি; এমন সম্ভাবনার কথা অনেকেই বলছেন হলফ করে। সেক্ষেত্রে আসনটিতে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকছে না। তবে জোটের প্রার্থী করা হলেও কাশেমীর মত রাজনীতির মাঠে ‘আনকোড়া’ প্রার্থীকে নিজেদের আসনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিবেন না বলেও এমন আলোচনা ভেসে আসছে ভোটারদের মাঝ থেকে।


এতে আসনটির জন্য যোগ্য ও অবস্থান সম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে যোজন যোজন এগিয়ে থাকছেন মোহাম্মদ আলী। দানবীর হিসেবে তার যেমন জনপ্রিয়তা রয়েছে, তেমনই রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংকও। এই অঞ্চলের মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি সর্বদা পাশে ছিলেন। তাই বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দেয়ার সিদ্ধান্তে হাঁটতে থাকায় ফতুল্লার রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী এবং সাধারন মহলও যোগ্যতার বিচারে মোহাম্মদ আলীকে নিয়েই ভাবতে শুরু করেছেন।


ফতুল্লার প্রবীন ব্যক্তিরা বলছেন, উন্নয়ন বঞ্চিত ফতুল্লাকে ঢেলে সাজাতে হলে মোহাম্মদ আলীর মত একজন যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তির বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মোহাম্মদ আলীর বিশেষ কদর ও গ্রহণ যোগ্যতা থাকায় তিনি এখানকার এমপি হলে সুবিধা বঞ্চিত ফতুল্লার মানুষের জন্য তা হতে পারে আশির্বাদ। কেননা, এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মোহাম্মদ আলী যতটা ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা অন্যকারোর দ্বারা সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।


তাই মোহাম্মদ আলীকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার জন্য ফতুল্লার রাজনৈতিক, ব্যবসায়ীক ও সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে অন্যান্য মহলের ব্যক্তিবর্গরাও প্রতিনিয়ত তার কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারাও রয়েছেন মোহাম্মদ আলীর পাশে। তারাও চেয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী যেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হাল ধরেন। এবার সকলের সেই প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন মোহাম্মদ আলী। এতে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে ফতুল্লাবাসীর মাঝে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >