নারায়ণগঞ্জ ।
,

আ.লীগ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মোস্তফা কামালের গোপন মিশন

বিশেষ প্রতিনিধি : বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার একাধিক মামলা কাঁধে নিয়েও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা কামাল| এমনকি ফতুল্লা অঞ্চলে আওয়ামী লীগকে পূর্নঃগঠন করতে গোপন মিশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি| ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় অবস্থিত তার মালিকানা মোস্তফা প্লাজা ভবনে নিয়মিতই বসছে আওয়ামী লীগের গোপন মিটিং| ফলে তার বসতবাড়ী ও ভবনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রায় সময়ই যাতায়াত করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ স্থানীয় সূত্রগুলোর|


এদিকে, ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যার একাধিক মামলায় মোস্তফা কামাল অন্যতম আসামী হলেও কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না- সেই প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে| যদিও অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা তৈয়বুর রহমানের বেয়াই হওয়ায় তার ছায়ায় নিরাপদে আছেন মোস্তফা কামাল| বেয়াই বিএনপি নেতা হওয়ায় পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ালেও আছেন ড্যামকেয়ার মুডে| উল্টো আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার মিশনে চালিয়ে যাচ্ছেন গোপন তৎপরতা| ফলে ফতুল্লা অঞ্চলে নাশকতা ঘটার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা|


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সময়কালে প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল| তিনি নিজেও বহন করতেন আগ্নেয়াস্ত্র| এসকল অস্ত্র ˆবধ কিংবা লাইসেন্সকৃত বলা হলেও মোস্তফা কামালের কিছু অনুসারীদের হাতে ছিলো অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের| যার প্রমাণ মিলেছিল বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময়ে| সেই সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগোলিতে জড়ায় মোস্তফা কামাল ও তার অনুসারীরা| এসকল ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অস্ত্র ও হত্যা মামলাও|


কয়েকটি সূত্র বলছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময়কাল ছাড়াও অতীতে বিভিন্ন সময়ে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের দাপট দেখিয়েছিল মোস্তফা কামাল ও তার অনুসারীরা| বিভিন্ন সময়ে আধিপত্য বিস্তার ও সেক্টর দখলকে কেন্দ্র করে মোস্তফা কামাল বাহিনী অবৈধ অস্ত্রের প্রয়োগ করেছিলেন ফতুল্লার রামারবাগ, কাঠেরপুল ও লালখা এলাকায়| এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ˆবধ অস্ত্রের অবৈধ প্রদর্শনীর মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে দেখা গিয়েছিল মোস্তফা কামালকে|


গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তৎকালিন সমালোচিত এমপি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি মিছিলে মোস্তফা কামাল স্লোগাণ দেয়ার সময় তার একটি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন| মিছিলের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেখে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে| যদিও ওই পিস্তলটিকে বৈধ বলে দাবি করেছিলেন মোস্তফা কামাল|
এদিকে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে গত ১৯ জুলাই শহরে শামীম ওসমান তার বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন| অনেকে নির্বিঘ্নে ছাত্র-জনতার উপর গুলি ছোড়ে| এসময় মোস্তফা কামালও শামীম ওসমানের সাথে অস্ত্রসহ নগরীতে অবস্থান করেছেন- এমন তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে|


জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গা ঢাকা দিয়েছিল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল| বেশ কিছুদিন সে পালিয়ে বেড়ালেও পরবর্তীতে তিনি তার বেয়াই বিএনপি নেতা ˆতয়বুর রহমানের সহায়তায় এলাকায় থিতু হতে শুরু করেন| বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগকে পূনরায় প্রতিষ্ঠিত করার গোপন মিশন চালিয়ে যাচ্ছেন|
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন মোস্তফা কামাল দলের নাম ব্যবহার করে ফতুল্লার রামারবাগ সহ বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে গেছে| তার শেল্টারে এলাকার বিভিন্ন অবৈধ সেক্টর নিয়ন্ত্রনে বাহিনীর মধ্যে ছিলেন ডাকাত মিঠু, সাখাওয়াত ও মহিউদ্দিনসহ অন্যান্যরা| তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন ফ্ল্যাটে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের মাঝে|


জানা গেছে, মোস্তফা কামালের গ্রামের বাড়ি বরিশাল হলেও ব্যবসায়ীক সুবাধে তিনি নারায়ণগঞ্জে এসে এবং ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় নিবাস গড়েন| অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাকে দেখা না গেলেও প্রভাবশালী এক আত্মীয়র পরিচয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে জাহির করতে শুরু করেন| একপর্যায়ে নানা তদবীরের মাধ্যমে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদও বাগিয়ে নেন| থানা আওয়ামী লীগের পাশাপাশি তিনি বাগিয়ে নিয়েছিলেন ফতুল্লা থানা কমিউনিটিং পুলিশের সভাপতির পদও| বিভিন্ন পদপদবী বাগিয়ে নেয়ার পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করে মোস্তফা কামাল| তার নিয়ন্ত্রণে ছিলো এক অস্ত্রধারী বাহিনী| ওই বাহিনীর প্রধান ছিল চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডাকাত মিঠু| অনেকেই তাকে মোস্তফা কামালের ডান হাত বলেও আখ্যায়িত করতেন| বিগত সময়ে মোস্তফা কামালের বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত কর্মসূচি বা অনুষ্ঠানে মিঠুর সরব উপস্থিতি দেখা যেত| ইতিপূর্বে মিঠু গ্রেফতার হলেও তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় তদবীর চালাতেও দেখা গিয়েছিল মোস্তফা কামালকে| এবার তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোড়ালো দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল|

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >