নারায়ণগঞ্জ । বুধবার
১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

না.গঞ্জ বিএনপিতে নির্বাচনী আলোচনা
বড় ফ্যাক্টর হবেন তরুণরা!

তফসিল ঘোষণা না হলেও নারায়ণগঞ্জে বাজতে শুরু করেছে নির্বাচনী ডামাডোল। পাঁচটি আসনের নতুন করে সীমানা নির্ধারণের পর বিএনপি অঙ্গণ ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন নির্বাচন কেন্দ্রীক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে কোন আসনে কে পেতে পারে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন; কিংবা নবীন? নাকি প্রবীন? কেমন প্রার্থী বেছে নিবে বিএনপির হাইকমান্ড? এমন প্রশ্নের পাশাপাশি নানা মত-দ্বিমত ভেসে আসছে দলীয় কর্মী, সাধারণ সমর্থক এমনকি ভোটারদের মাঝ থেকেও।


সচেতন মহল বলছে, গত ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক ধারা ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের ছোয়া কামনা করছেন সাধারণ মানুষ। গতানুগতিক রাজনৈতিক কালচারের পরিবর্তন যেমন সময়ের দাবি, তেমনই নতুন দিনের সূচনা করতে নবীনদের হাতে নেতৃত্ব তথা জনপ্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব তুলে দেয়ার বিকল্প নেই।


এদিকে, বিএনপির নীতিনির্ধারক এবং পরামর্শক পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গরাও বলছেন, যোগ্যতা, স্বচ্ছতা, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও দলীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা বিবেচনায় নবীন-প্রবীণের মিশেলে আগামীর নেতৃত্ব বেছে নেয়া হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময়ী উদীয়মান তরুণ নেতা। যারা আগামী নির্বাচনের বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।


এই তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু, ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি জি.এম সাদরিল সহ আরো বেশ কয়েকজন।


জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের বাসিন্দা গোলাম ফারুক খোকন জেলা বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি জেলা বিএনপির বর্তমান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর বলয়ে থেকে রাজনীতি করলেও রাজনীতিকাঙ্গণ তথা রূপগঞ্জে গোলাম ফারুক খোকনের কর্মী-সমর্থক রয়েছে। রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ধরে রাখায় উদীয়মান নেতা হিসেবে গোলাম ফারুক খোকনকে নিয়ে তার কর্মী সমর্থকদের মাঝে নানা জল্পনা কল্পনা রয়েছে।


এদিকে, নারায়ণগঞ্জের বিএনপি অঙ্গণে এখন অন্যতম এক নাম হয়ে উঠেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব। ছাত্রদলের রাজনীতি ও নেতৃত্ব দেয়ার সময়কাল থেকেই নিজেকে পৃথক ভাবে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন সময়ের আলোচিত এই বিএনপি নেতা। ভিপি রাজীব হিসেবে অধিক পরিচিত এই নেতাকে রাজপথের পরীক্ষিত হিসেবে স্বীকার করেন তার বিরোধী বলয়ের লোকেরাও। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে রাজীব তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করেছেন। বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে আসার পর রাজীব কেবল ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ কিংবা মহানগর বন্দরই নয় বরং তার বিচরণ ছড়িয়েছেন সেই সোনারগা কিংবা রূপগঞ্জ আড়াইহাজারেও। নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে রাজীবের ব্যাপক কর্মী সমর্থক রয়েছে। রয়েছে জনপ্রিয়তা এবং জনসম্পৃক্ততাও। ফলে সম্ভাবনাময়ী এই উদীয়মান তরুণ নেতাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সমানতালে আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে।


এদিকে, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু ছাত্র-রাজনীতির পর জেলা যুবদলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়কের মত গুরুত্বপূর্ন পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক মামলা ও জেল তো বটেই, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে টিটু তার চোখে গুলি বিদ্ধ হয়ে চোখ হারাতে বসেছেন। ত্যাগ তিতিক্ষা থাকায় টিটুর কর্মী-সমর্থকরা তাকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়ে সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন।


অন্যদিকে, উদীয়মান তরুন নেতাদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। সম্ভাবনাময়ী এই যুবদল নেতা ইতিমধ্যেই নিজের গ্রহণযোগ্যতা, সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ, জনপ্রিয়তা ও জন-সম্পৃক্ততার স্বাক্ষর রেখেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ সামাজিক ক্ষেত্রগুলোতেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালীন মশিউর রহমান রনি নিজেকে আলাদা ভাবে পরিচিতি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। দলে তার আত্মত্যাগ ও নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলার মত জায়গা নেই বলে মনে করেন বিএনপির পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। একের পর মামলা, দিনের পর দিন জেল খাটা সহ গুমেরও শিকার হয়েছিলেন আলোচিত এই নেতা। আওয়ামী লীগের শাসনামলে যখন বিএনপির কেউ কেউ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালিন এমপি এমপি শামীম ওসমানের সাথে তলে তলে আতাত করেছিলো, তখন মশিউর রহমান রনি অনেকটা চোখে চোখ রেখে শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রকাশ্য সমালোচনা করে বেড়াতেন। ভয়-ডরহীন এই নেতাকে নিয়ে এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তার কর্মী সমর্থক ও এলাকার বাসিন্দারা।

এদিকে, বিএনপি অঙ্গণে আরেক পরীক্ষিত নেতা রুহুল আমিন শিকদার। দলের দুঃসময়ের যেকোনো আন্দোলন সংগ্রামে সরাসরি রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন তিনি। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই উদীয়মান তরুণ নেতা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সম্পাদক পদে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পদে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখে চলেছেন। তথ্য বলছে, রুহুল আমিন শিকদার নারায়ণগঞ্জের প্রায় প্রতিটি থানায় দায়েরকৃত রাজনৈতিক মামলায় আসামী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের আমলে কারাবরণ করেছেন এমনকি জামিনে থাকলেও ফেরারি জীবন-যাপন করেছেন। এরপরও দলের যেকোনো কর্মসূচি কিংবা আন্দোলন সংগ্রামে রুহুল আমিনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। তিনি ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর সাথে এক ব্যনারে রাজনীতি করছেন। তবে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও তাকে দল থেকে বহিস্কার করায় তার বিপরিতে এই বলয় থেকে এখন রুহুল আমিন শিকদারকে নিয়ে আলোচনা চলছে। ফতুল্লার বৃহৎ অংশের নেতাকর্মীরা এখন রুহুল আমিন শিকদারের নেতৃত্বে দলীয় কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করছেন। তারা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে রুহুল আমিন শিকদারকে নিয়ে আগামীর স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন।


এদিকে, উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনায় এসেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পুত্র ও সাবেক কাউন্সিলর জিএম সাদরিল। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি পদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ধরে রাখায় এবং জনবান্ধব কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখায় জিএম সাদরিল সাধারণ মানুষের ‘গুডবুকে’ জায়গা করে নিয়েছেন। গিয়াস উদ্দিনের পুত্র হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে জিএম সাদরিলের আলাদা গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। আগামীর রাজনীতিতে তিনি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >