নারায়ণগঞ্জ ।
,

মোস্তফা কামালের বাড়ীতে ১৫ই আগস্টের প্রস্তুতি, অভিযানের শঙ্কায় পণ্ড

নিজ বাড়ীতে ১৫ই আগস্ট শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের অভিযানের শঙ্কায় তা পণ্ড করেছে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্রগুলো।


অভিযোগ রয়েছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার একাধিক মামলা কাঁধে নিয়েও ফতুল্লা তথা নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে এই আওয়ামী লীগ নেতা। এমনকি ফতুল্লায় আওয়ামী লীগকে পূর্নঃগঠন করতে গোপন মিশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় অবস্থিত তার মালিকানা মোস্তফা প্লাজা ভবনে নিয়মিতই আওয়ামী লীগের গোপন মিটিং হয়ে থাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তার বসতবাড়ী ও ভবনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রায় সময়ই যাতায়াত করতে দেখা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল তার বাড়ীতে গোপনে ১৫ই আগস্ট শোক দিবস পালন করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। তবে সেই খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের শঙ্কায় সভাটি পণ্ড করে দেয়া হয়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


এদিকে, ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যার একাধিক মামলায় মোস্তফা কামাল অন্যতম আসামী হলেও কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না- সেই প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীড়ের সময়কালে প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল। তিনি নিজেও বহন করতেন আগ্নেয়াস্ত্র। এসকল অস্ত্র বৈধ কিংবা লাইসেন্সকৃত বলা হলেও মোস্তফা কামালের কিছু অনুসারীদের হাতে ছিলো অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। যার প্রমাণ মিলেছিল বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময়ে। সেই সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগোলিতে জড়ায় মোস্তফা কামাল ও তার অনুসারীরা। এসকল ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অস্ত্র ও হত্যা মামলাও।


কয়েকটি সূত্র বলছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময়কাল ছাড়াও অতীতে বিভিন্ন সময়ে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের দাপট দেখিয়েছিল মোস্তফা কামাল ও তার অনুসারীরা। বিভিন্ন সময়ে আধিপত্য বিস্তার ও সেক্টর দখলকে কেন্দ্র করে মোস্তফা কামাল বাহিনী অবৈধ অস্ত্রের প্রয়োগ করেছিলেন ফতুল্লার রামারবাগ, কাঠেরপুল ও লালখা এলাকায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ প্রদর্শনীর মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে দেখা গিয়েছিল মোস্তফা কামালকে।


গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তৎকালিন সমালোচিত এমপি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি মিছিলে মোস্তফা কামাল স্লোগাণ দেয়ার সময় তার একটি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন। মিছিলের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেখে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ওই পিস্তলটিকে বৈধ বলে দাবি করেছিলেন মোস্তফা কামাল।


এদিকে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে গত ১৯ জুলাই শহরে শামীম ওসমান তার বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন। অনেকে নির্বিঘ্নে ছাত্র-জনতার উপর গুলি ছোড়ে। এসময় মোস্তফা কামালও শামীম ওসমানের সাথে অস্ত্রসহ নগরীতে অবস্থান করেছেন- এমন তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে।


জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গা ঢাকা দিয়েছিল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল। বেশ কিছুদিন সে পালিয়ে বেড়ালেও স্থানীয় বিএনপিতে থাকা তার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়র আশ্রয়ে এবং সার্বিক সহযোগীতায় তিনি এলাকায় থিতু হতে শুরু করেন। এমনকি বর্তমান তিনি আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত ও সংগঠিত করার গোপন মিশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >