দেশজুড়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নানা উদ্যোগ চললেও, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে বিদ্যুতের ভয়াবহ অপচয় রোধ করা যাচ্ছে না।
দেশ যখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছে, ঠিক তখনই অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যেন গিলে খাচ্ছে জাতীয় গ্রিডের শক্তি। প্রতিদিন গড়ে ৭৫০ মেগাওয়াট—কখনো তা ৮০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে—শুধু অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতেই খরচ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)–সংস্থাটির বিশ্লেষণ বলছে, দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে এই খাতে—যার বড় অংশই ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। এ যেন এক নীরব ‘বিদ্যুৎ ডাকাতি’। রাতের আঁধারে কিংবা দিনের ব্যস্ততায়, অসংখ্য অবৈধ লাইনের মাধ্যমে চার্জ হচ্ছে হাজার হাজার অটোরিকশা। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, নেই কার্যকর তদারকি। ফলে জাতীয় গ্রিডে চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহককে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে লোডশেডিং ও ভোল্টেজ সংকটে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু অবৈধভাবে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। যা দেশের জ্বালানি খাতের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, লাইসেন্সবিহীন চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ এবং পরিকল্পিত বৈধ চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই।
নয়তো অটোরিকশার এই ‘বিদ্যুৎ ক্ষুধা’ একসময় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দেবে—এমন আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে।








