দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়ায় গতকাল হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে এখন শুধুই স্বজনদের চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার চিত্র।
এ পরিস্থিতিতে দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। রবিবার (৪ এপ্রিল) এই কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রাথমিকভাবে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম–রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। এসব উপজেলায় হামের উচ্চ সংক্রমণ হার দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বৃহস্পতিবার থেকে বাতিল করা হয়েছে এবং তারা স্থানীয় কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসব উপজেলার ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখ ৩ হাজার ২৬৭টি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।
টিকার সরবরাহ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফের সহায়তায় আগে আনা টিকা দিয়েই এই জরুরি কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ৬০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন টিকা কেনার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন টিকা হাতে এলে জুন-জুলাই মাসে আবারও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। সে সময় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আগে টিকা নেওয়া শিশুরাও এ কর্মসূচির আওতায় থাকবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হামের রোগীদের প্রায় ৩০ শতাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।








