নারায়ণগঞ্জ । মঙ্গলবার
১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হিমশীতল স্পর্শে বাড়ছে পিঠার কদর

‘এসেছে শীত গাহিতে গীত বসন্তেরি জয়’ কবিগুরুর সেই পংক্তির মতোই শীত আবার আপন মহিমায় ফিরে এসেছে।

কুয়াশার চাদর মুড়ে নামে শীতের সকাল; মানুষের মনে জাগায় বিচিত্র অনুভূতি, জাগায় প্রাণচাঞ্চল্য। শীত যেন নিরানন্দের ঢাকনা সরিয়ে মানুষের মনে স্পর্শ করে সুখের উষ্ণতা। আর শীত মানেই পিঠার মৌসুম গ্রামীণ কৃষ্টি ও বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের এক অপরূপ উৎসব।

পৌষের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে বাঙালির ঘরে জ্বলে ওঠে চুলা, মা-বধূদের ব্যস্ত হাত রাঁধতে থাকে পাটিশাপটা, ভাপা, চিতই, দুধচিতই থেকে শুরু করে শতাধিক নামের ঐতিহ্যবাহী পিঠা। খেজুরের রসের টান, নারিকেলের মিষ্টি গন্ধ আর চালের গুঁড়ার নরম আদরে তৈরি পিঠা যেন আত্মীয়তা, ভালোবাসা আর সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। এ ঐতিহ্যেরই রূপ বগুড়া শহরে ফিরিয়ে এনেছে আকবরিয়া।

গ্রামের দাদি-নানির স্মৃতিকে হাত ধরে বর্তমান প্রজন্মের স্বাদে ঢেলে দিচ্ছে আকবরিয়ার পিঠার আয়োজন। বগুড়ার কবি নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে শীত নেমে এলেই জমে ওঠে পিঠা উৎসব। পাটিশাপটা, দুধ পিঠা, দুধ-কুশলী পিঠা, ভাপা পিঠা, কুশলী পিঠা, খাস্তা, তেলপিঠা, চিতই, খেজুর পিঠা নিয়ে হাজির হয়েছে আকবরিয়া।

চুলার ধোঁয়া আর গুড়ের ঘ্রাণে দিনভর ভরপুর থাকে দোকানজুড়ে। শহরের কৃত্রিমতা ও যান্ত্রিক ব্যস্ততা শীতের সকালকে যতই ঢেকে রাখুক, আকবরিয়ার পিঠা মানুষকে টেনে নিয়ে যায় শৈশবের উঠোনে।

পিঠা খেতে আসা মিরাজ বলেন, শীতে গরম গরম পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। বাসায় এসব বানানো ঝামেলার, কিন্তু এখানে তাজা পিঠা প্লেটেই পেয়ে যাই। সময় পেলেই পরিবারের সবাই মিলে চলে আসি।

পিঠা কিনতে আসা অনেকেই জানান, বাসায় সব ধরনের পিঠা তৈরি হয় না। তাই অজানা-অচেনা পিঠার স্বাদ নিতে আকবরিয়ার আয়োজনই তাদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে ভাপা পিঠার স্বাদ দাদী-নানীর হাতের পিঠার মতোই অতুলনীয়। আকবরিয়ার হরেক রকম পিঠার গন্ধে অতীতের স্মৃতি জেগে ওঠে।

আকবরিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল জানান, শীত মানব মনে এক বিচিত্র অনুভুতির সঞ্চার করে দেয়। শীত এসে মানুষকে আরও প্রাণচঞ্চল ও আনন্দমুখর করে তোলে। শহুরে জীবনে গ্রামের পিঠা তৈরির ধুম এখন প্রায় বিলুপ্ত। নতুন প্রজন্ম যাতে এ ঐতিহ্য ভুলে না যায়, তাই আমরা নানা ধরনের পিঠার আয়োজন করেছি। কমমূল্যে, হাতের নাগালে, সম্পূর্ণ গ্রামীণ স্বাদে পিঠা পৌঁছে দিচ্ছি মানুষের কাছে। এটি মানুষের সেতুবন্ধন তৈরিতে ও অতীতের স্মৃতি মনে করার অবলম্বন। শীতে বগুড়ায় পিঠার সুবাস মানেই আকবরিয়া, পিঠার স্বাদ মানেই বাঙালির হৃদয়ের অনুরণন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >