জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিনে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আবারো দেখা গেল দুটি বুলডোজার। এই মামলার আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও আরো দুইজন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বুলডোজারগুলো ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পৌঁছায়। সে সময় ট্রাকের ওপরে কয়েকজন তরুণ মাইক হাতে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তারা জানান, ‘রেড জুলাই’ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বুলডোজার দুটি আনা হয়েছে।
এই ঘটনার পরে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এই বুলডোজারবাহী দলকে ‘রাজাকার বাহিনী’ বলে অভিহিত করেন। তিনি ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন, ‘মনের ভয়-ই আসল ভয় বুঝেছিস গাধার দল! বারবার ভেঙে, বারেবারে আগুন দিয়েও তোদের ভয় যায়নি… এই ভাঙা বাড়ির প্রতিটা ধূলিকণা যে বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে মিশে আছে সেটাকে কিভাবে অস্বীকার করবি রে রাজাকার বাহিনী!’
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।
ছয় মাস পর, ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বুলডোজার মিছিল’ নামে এক কর্মসূচি থেকে বাড়িটি ভাঙা শুরু হয়। সেদিন রাত ১১টার দিকে একটি ক্রেন নিয়ে কর্মীরা ৩২ নম্বর সড়কে ঢোকে। মানুষ জোরালো স্লোগানের মাধ্যমে ক্রেনের ওপরে অনেকে উঠে যান। এরপর আসে একটি এক্সক্যাভেটর।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্রেন ও এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। ঘণ্টাখানের মধ্যেই বাড়ির একটি বড় অংশ ভেঙে ফেলা হয়। রাত ১টার পর সাময়িক বিরতির পর আরেকটি এক্সক্যাভেটর যোগ দেয়।
মধ্যরাতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভকারীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান তুলেন। কিছুক্ষণ পর তারা সরে যান। গভীর রাতে মাইক হাতে গান বাজিয়ে অনেককে নাচতেও দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত বাড়িটির বেশিরভাগ অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
তবে ভাঙা অবস্থায় থাকা বাড়িটি ঘিরে এখনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে সরকার।







