বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকালে টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে নৌপুলিশ। পরে নিহতের পকেটে পাওয়া আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের চূড়ান্ত মুহূর্তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া এবং এর মাসখানেক পর নিজের চাকরিচ্যুতিসহ নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন তাহসিফ সাউরি। তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন—এই বিষয় সামনে রেখে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিহত তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম হেলাল বলেছেন, তার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাহসিফ অবিবাহিত ছিলেন বলে তিনি জানান।
নিহতের খালাতো বোন মোশফেকা জাহান একে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে বলেন, তাহসিফ গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে ছিলেন। নিহতের চাচা এটিকে উচ্চপর্যায়ের কোনো গোষ্ঠীর মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে বলেছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
তাহসিফ বিমান বাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরের পর বিমান বাহিনীর এই পাইলট সুইডেনভিত্তিক নিউজ পোর্টাল নেত্রনিউজে কাজ করতেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ (বিসিবি), একটি সিগারেট কোম্পানিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।
ঢাকা জেলা নৌপুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করছে। ছায়াতদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন বলেন, বুধবার বিকালে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে উত্তরখানের রাজাবাড়ি খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল।
ডিবি পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আমরা হত্যা, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখেই তদন্ত শুরু করেছি। তিনি সবশেষ কার সঙ্গে বেরিয়েছেন, কোথায় কোথায় গেছেন, কাদের সঙ্গে দেখা করেছেন-সেসব নিয়ে কাজ করছি। মোবাইল ফোনের কললিস্ট, সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক করার কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও তাহসিফের সঙ্গে একাধিক নারীর প্রেমের সম্পর্ক, তার চাকরিচ্যুতির কারণসহ নানা বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরো বলছে, প্রযুক্তিগত তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ঘটনার তদন্ত বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার রেজাউল করিম বলেন, এ নিয়ে থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। পরিবার চাইলে উত্তরখান থানায় মামলা করতে পারে। তবে নিয়ম অনুযায়ী মামলাটির তদন্ত করবে নৌপুলিশ। পরে সেটা ডিবি, সিআইডি বা পিবিআইতে স্থানান্তর হতে পারে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ
রাজধানীর উত্তরা আবাসিক এলাকার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ভবনের তিনতলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন তাহসিফ। বাংলাদেশ পদ্মা অয়েল কোম্পানির সাবেক বোর্ড পরিচালক এনায়েতুল করিমের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে তাহসিফ ছিলেন বড়।
তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ নামের এক জুনিয়র বন্ধু বাসার নিচে এসে তাহসিফকে ডাকে। দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে ফিরবে জানিয়ে নিচে নামে তাহসিফ। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি।
তিনি আরো জানান, তদন্ত সংস্থার সন্দেহভাজনদের তালিকায় দ্বীপের নাম রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিছু তথ্য জানা যেতে পারে।
তাহসিফের বাড়ির নিচতলার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পৃথক মোটরসাইকেলে দ্বীপের সঙ্গে বাসা থেকে বের হন তিনি। বের হওয়ার সময় সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফকে অপর একজনের সঙ্গে কথা বলতে ও হাত মেলাতে দেখা যায়। পাশে একটি নীল মোটরসাইকেলের হেডলাইট জ্বলছিল।
তাহসিফের চাচা আমার দেশকে বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সে সুজুকি জিএক্সআর মডেলের একটি মোটরসাইকেল চালাত।
দ্বীপের দাবি তাহসিফ ১২টার আগেই চলে যান
দ্বীপ বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়। দুজনের মোটরসাইকেলের মডেল একই। তাহসিফের মোটরসাইকেলটি ঠিকমতো স্টার্ট না নেওয়ায় তাকে সহায়তা করেন দ্বীপ। পরে তারা উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে যান। সেখানে তাহসিফের মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনসহ আরো কিছু কাজ করানো হয়। এতে প্রায় এক-দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।
এরপর দুজন উত্তরার রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের রাজী রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান।
দ্বীপ জানান, রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে তিনি নিজের বাসার দিকে চলে যান আর তাহসিফ চলে যান অন্যদিকে। এরপর তিনি কোথায় গিয়েছিলেন, তা জানেন না দ্বীপ।
তাহসিফের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি জানান, বয়সে ছোট হলেও তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাহসিফকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন। দুই পরিবারের মধ্যেও যোগাযোগ ভালো ছিল।
‘আম্মু আসছি’ বলে নিখোঁজ
তাহসিফের বাবা আমার দেশকে বলেন, মঙ্গলবার প্রায় সারাদিন ছেলের সঙ্গে ছিলেন তার মা রোশনে আরা বেগম। পরিবারের জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন তাহসিফ। রাতে দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে বাসা থেকে বের হন। যাওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, একটু কথা বলেই ফিরে আসবেন। এরপর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তার মা বারবার ফোন করেও তাকে পাননি।
রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফের ফোন থেকে একটি অডিও বার্তা আসে। সেখানে তিনি মাকে জানান, বাসায় আসছি…। কিন্তু এরপর আর তার কোনো খোঁজ মেলেনি। তাহসিফের আত্মীয়রা বলেন, আমাদের কাছে ভয়েস মেসেজটি তাহসিফের মনে হয়নি। ভয়েস মেসেজের কণ্ঠের সঙ্গে তাহসিফের কণ্ঠ মিলছে না।
তাহসিফের বাবা জানান, বুধবার দুপুরে থানায় গিয়ে ছেলের খবর নিয়েছেন। কিন্তু কোনো খবর পাননি। পরে বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে উত্তরখান থানার পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে তুরাগ নদে একটি লাশ উদ্ধারের খবর দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, রাজাবাড়ি ঘাট এলাকায় তার ছেলে আগে কখনো গেছে বলে তার জানা নেই। সে সেখানে কীভাবে গেল, কেন গেল এবং কীভাবে তার মৃত্যু হলো—এসব প্রশ্নের জবাব জানতে চান তিনি।
তাহসিফের বাবা ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আমার দেশকে বলেন, আমার ছেলে অনেক স্ট্রং পার্সোনালিটির অধিকারী ছিল। সে কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে এক এলাকায় হত্যা করে অন্য এলাকায় নিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
লাশ গ্রহণের আগে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে তিনি আরো বলেন, বিমানবাহিনী থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত কারণে ছেলেকে অবসরে দেওয়া হয়েছিল। তবে কী ধরনের অভিযোগ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট তাহসিফসহ দুই কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর তথ্য জানিয়েছিল।
মাসখানেক আগে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
তাহসিফের আত্মীয়রা জানান, মাসখানেক আগেও মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার কাছ দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় পড়েন তাহসিফ। একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। দুর্ঘটনাটিকে ‘অ্যাটেম্প টু মার্ডার’ বলে সন্দেহ করেন তার আত্মীয়রা। এরপর পরিবার থেকে তাকে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করা হয়। তার এক চাচা বলেন, তাহসিফ সাঁতার জানত। এ কারণে পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।
রাজাবাড়ি ঘাটে যা জানা গেল
গত বুধবার দুপুর ২টার দিকে রাজাবাড়ি ঘাটে খোকন মিয়া নামে এক ব্যক্তি তুরাগ নদে একটি লাশ ভাসতে দেখেন। লাশটি স্রোতের টানে ঘাটের দিকে এসে সেখানে বেঁধে রাখা একটি সাদা স্পিডবোটের সঙ্গে আটকে যায়। লাশটি কয়েক ঘণ্টা ওই অবস্থায় ছিল। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা কাঞ্চনও লাশটি দেখেছিলেন বলে দাবি করেন। ওই ব্যক্তি তার সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় নদে লাশটি দেখেন।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। বুধবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশের পকেটে থাকা আইফোন থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে ছিল কালো রঙের কাবুলি পাঞ্জাবি ও সাদা রঙের ট্রাউজার। হাতে ছিল ঘড়ি।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনও (পিবিআই) তথ্য সংগ্রহ করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষা ও ঘটনাস্থলের তথ্য বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের সময় লিভার, কিডনি, পাকস্থলী ও রক্তসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির জন্যও নমুনা নেওয়া হয়েছে।
সুরতহালে আঘাতের চিহ্ন নেই
লাশ উদ্ধারের পর তাহসিফের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি লেখেন, তাহসিফের নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার আলামত ছিল। পেট ফোলা থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। শরীর ঠান্ডা এবং পেশি আংশিক শক্ত ছিল। তবে বাইরে থেকে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শুধু বাহ্যিক অবস্থা দেখে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
যেভাবে আলোচনায় আসেন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লবের মুখে দেশ ছাড়েন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। ওই সময় তার দেশ ছাড়ার মুহূর্তের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি কে বা কারা ছড়িয়েছিল সেই প্রশ্নও সামনে এসেছিল। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ধারণ করা বা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুই কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, ওই দুই কর্মকর্তার একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি।
পরে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এই সংবাদের প্রেক্ষিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর প্রতিবাদ লিপিতে বলেছে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বিভ্রান্তিকর।
অবশ্য সাউরি ইঙ্গিত দেন যে ভিডিও ধারণ কিংবা পোস্ট করার করার কারণে তিনি চাকরিচ্যুত হতে পারেন। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাস আগে একটি ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি যদি ভিডিওটি করেও থাকি বা ছড়িয়েও থাকি, মানে হোয়াট ইজ দ্যা প্রুভ দে আর হ্যাভিং (তাদের কাছে কী প্রমাণ আছে?), আমি এটা জিজ্ঞেস করতে পারি। আর এটাও হতে পারে যে, এজন্যই আজকে আমি হয়তো এয়ারফোর্সে নেই।’
তাহসিফকে অনুসরণ করার দাবি
তাহসিফের মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার খালাতো বোন মোশফেকা জাহান। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাহসিফকে দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে। অবসরে পাঠানোর পরও গোয়েন্দারা তাকে নিয়মিত অনুসরণ করতেন বলে তাহসিফ তাকে জানিয়েছিলেন।
স্ট্যাটাসে মোশফেকা জাহান আরো লেখেন, আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে, কী দোষ ছিল তার? তাকে অবসর দেওয়া হয়েছে, দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ার পরও তাদের শান্তি হয়নি। মেরেই ফেলতে হলো তাকে!
তাহসিফের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণেই কি তার ভাইকে এমন পরিণতির শিকার হতে হয়েছে? সুস্থ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। স্ট্যাটাসে তার খালার জুলাই আন্দোলনে রাজপথে থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
জানাজা দাফন
তাহসিফের বাবা গতকাল বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বুঝে নেন। উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বাসার পাশের মসজিদে আসর নামাজের পর জানাজা শেষে তাহসিফকে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন টঙ্গী প্রতিনিধি জাকির হোসেন]




