ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট ডেঙ্গু টেস্ট কিট হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে খানপুর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. সাখাওয়াত হোসেন, ৩০০ শয্যা খানপুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাশার , নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
পরে অতিথিবৃন্দ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন, চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন,ডেঙ্গু এখন আর শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক সংকট। নারায়ণগঞ্জ একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি। মানুষ যাতে দ্রুত সময়ে স্বল্প খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে পারে, সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কিট প্রদান করা হলো। আমাদের লক্ষ্য, কোনো রোগী যেন পরীক্ষার অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নারায়ণগঞ্জ জেলার সকল উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পুলিশ শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, মানবিক কাজেও সব সময় মানুষের পাশে থাকে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। আমরা ইতিমধ্যে পুলিশ লাইন্স, থানা ও ফাঁড়িগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করেছি। আমি নারায়ণগঞ্জবাসীকে আহ্বান জানাব, আপনারা বাসাবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, কোথাও পানি জমতে দেবেন না। গুজবে কান দেবেন না। ডেঙ্গু নিয়ে কোনো হাসপাতালে অবহেলা বা হয়রানির অভিযোগ পেলে জেলা প্রশাসনকে জানান। জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। জেলা পুলিশ ডেঙ্গু মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই টেস্ট কিট পাওয়ায় দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের দ্রুত ডেঙ্গু শনাক্তকরণ সহজ হবে এবং মৃত্যুঝুঁকি কমে আসবে।





