নারায়ণগঞ্জ ।
,

ছয় বছর পর পাগলা মসজিদের স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার গণনা শুরু

ট্রেজারিতে সংরক্ষিত ৯টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ৬টি সিলগালা করা খাম খুলে মূল্যবান এসব সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই এবং দেশভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রা আলাদা করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে তা নিলামে বিক্রি করা হবে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের একটি উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করছেন। এছাড়া জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণ ও রুপার ওজন নির্ধারণ এবং পরিমাপের কাজ করছেন।

এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক থেকে পাওয়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৮ ভরি রুপা ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দেশি-বিদেশি স্বর্ণ, চাঁদ-তারা ও নাকফুল বিক্রি করা হয়। এছাড়া সে সময় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে আয় হয়েছিল ৭০ লাখ টাকা। প্রাপ্ত নগদ অর্থ রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হয় এবং স্বর্ণালঙ্কার কালেক্টরেটের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ জুন পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হলে রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এরপর থেকে দানবাক্স আর খোলা হয়নি। তবে আগের সংগৃহীত অর্থসহ মসজিদের তহবিলে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও এখন পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীরা পাগলা মসজিদের দানবাক্সে নগদ টাকার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারও দান করে থাকেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব দানবাক্স খুলে সংগৃহীত অর্থ মসজিদের তহবিলে জমা রাখা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >