নারায়ণগঞ্জ ।
,

সিগারেট বাকি না দেয়ায় দোকানদারের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন

গুরুতর অবস্থায় ইব্রাহিমকে সবশেষ ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আগুনে তার শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

আহত ইব্রাহিম খলিল উপজেলার চেংজানা গ্রামের সুলতান উদ্দিনের ছেলে। আর অভিযুক্ত সুমন মিয়া একই গ্রামের মৃত কদে নেওয়াজের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিল সাহিতপুর বাজারে ‘ইসরাত জাহান স্টোর’ নামে একটি মুদি দোকান চালান। দোকানে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি তিনি বোতলে করে পেট্রোলও বিক্রি করেন। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুমন মিয়া দোকানে এসে টাকা না দিয়ে একটি সিগারেট চান।

দোকানদার তাকে বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন দোকানের সামনে বিক্রির জন্য রাখা বোতল থেকে পেট্রোল নিয়ে দোকানের সামনে ও ভেতরে ছিটিয়ে দেন। পরে গ্যাসলাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে বোতলটি ইব্রাহিমের দিকে ছুড়ে মেরে তিনি দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এতে দোকানের সামনের অংশসহ ইব্রাহিমের শরীরে আগুন ধরে যায়। এ সময় তার শরীরে আগুন জ্বলতে দেখে বাজারের ব্যবসায়ীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। ইব্রাহিমের ভাই লাদেন মিয়া আজ শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে বলেন, হাসপাতালের ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে ইব্রাহিম চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ৭০ ভাগের বেশি পুড়ে গেছে এবং অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

এদিকে ঘটনার ২৬ মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, সুমন মিয়া বোতল হাতে নিয়ে দোকানের সামনে পেট্রোল ছিটাচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি আগুন ধরিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় ইব্রাহিমের শরীরে আগুন ধরে গেলে তিনিও দৌড়ে দোকান থেকে বের হন।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার সহিলাটি গ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ হেফাজতে থাকায় অভিযুক্ত সুমন মিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >